Apan Desh | আপন দেশ

শেখ হা‌সিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২০:৩১, ১৬ জুলাই ২০২৬

শেখ হা‌সিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আর একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের আর কোনো সুযোগ নাই। যখনই তিনি বাংলাদেশে আসবেন, তাকে অ্যারেস্ট করা হবে—এটাই আইনগতভাবে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে হলে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈ‌তিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। আমরা আশা করব, শেখ হাসিনাসহ যেসব আসামি ওখানে রয়েছেন, বাংলাদেশে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে আরও ত্বরান্বিত করে তাদের ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা বারবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, চিঠি দিচ্ছি আশা করি তারা সেগুলোর রেসপন্স করবে। 

দু’দেশের সম্পর্কের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। সম্পর্ক সম্পর্কের জায়গায় থাকবেই। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এক্সচেঞ্জ থাকবে, ডায়লগ চলমান থাকবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, সেটা থাকবেই। কিন্তু এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

আরও পড়ুন<<>>৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মারা গেছে, যারা আহত অবস্থায় রয়েছে, তাদের পরিবারের জন্য একটা ক্লোজার দরকার। তারাও দেখতে চায় যে, যারা তাদের ছেলে-মেয়েদের খুন করেছে, আহত করেছে, তাদের বিচার হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে। আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলো ত্বরান্বিত হোক।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গেছেন। এখন দেশের মানুষের দাবি জোরালো হচ্ছে যে—যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে তাদের সাজার কার্যকর হোক।

এখন উনি কীভাবে আসবেন? আমরা এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আমাদের কমিউনিকেশন ইন্টারিম (অন্তর্বর্তীকালীন) পর্যায় থেকে শুরু করেছি। যেমন—হাসিনার মতো আসামি, হাদি  হত্যাকাণ্ডের আসামি এরা ভারতে আছে। তারা কীভাবে ফেরত আসবে, সেটা যদি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আসে, তাহলে সেটার আইনগত নিয়ম আছে এবং ডিপ্লোম্যাটিক কিছু নর্মস আছে। এ দুটো ফলো করেই হয়তো উনি ফেরত আসবেন এবং আসার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যারেস্ট হবেন।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেয়া হবে কিনা-জানতে চাইলে  প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট, ভিসার কাজগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়তো ভালো জবাব দিতে পারবে। আমি সাধারণভাবে যেটা বুঝি যে, সেটা অবশ্যই ভারত সরকারের সাহায্যেই হবে। 

তি‌নি ব‌লেন, ভারত সরকারের এখানে একটা রোল রয়েছে। সুতরাং, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী যদি ভারত সরকার এটা ত্বরিত গতিতে  করে, ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলটা যদি তারা ত্বরান্বিত করে, তাহলে সে অনুযায়ী ডকুমেন্টস হবে। একজন ব্যক্তির এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার জন্য জাস্ট একটা পিকচারসহ ট্রাভেল ডকুমেন্ট লাগে, যে 'ওই ব্যক্তিই সেই ব্যক্তি'। সেরকম একটা ডকুমেন্ট হয়তো ভারত সরকারও প্রোভাইড করতে পারে, বাংলাদেশ সরকারও করতে পারে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়