ছবি: আপন দেশ
গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে যত মামলা হয়েছে, তার সব কটি যাচাই–বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারা বাংলাদেশে যে মামলাগুলো হচ্ছে, যেগুলো আসলে ইন ফ্যাক্ট আমাদের এ ট্রাইবুনালের আওতাধীন অপরাধ, সেখানে একেকটা মামলায় হয়তো ৪০০ থেকে ৫০০ আসামি হচ্ছে। সব আসামি দোষী—এটা আমরা কিন্তু মনে করি না। আমরা মনে করি যে এর মধ্যে দোষী ব্যক্তি যেমন আছে, অনেক নিরপরাধ মানুষও আছে। অনেক সময় যারা প্রকৃত দোষী, তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেক নিরাপরাধ মানুষ জেল খাটতেছে।
আরও পড়ুন<<>>‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে চায় সরকার’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর সারাদেশে যত মামলা হয়েছে, সবগুলোর তথ্য চেয়েছেন। তার কাছে ইতিমধ্যে পাঁচ–সাত শ মামলার কপি সোমবার জমা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এক–দুই দিনের মধ্যে সারাদেশের এসব মামলার কপি তার কাছে আসবে। এগুলো একটি টিম যাচাই–বাছাই করবে। সব মামলা তারা যাচাই–বাছাই করে দেখবেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দেশের যেসব থানায় মামলাগুলো হচ্ছে, সেখানে যাতে কোনো দোষী ব্যক্তি ছাড়া না পেয়ে যায়। কোনো নির্দোষ মানুষও যেন অহেতুক জেলে না যায়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ মহল মামলা বাণিজ্যের নামে ব্যবসা না করতে পারে। যদি কেউ হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করে, তাহলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা সুপারিশ করবেন বলেও জানান তিনি।
ক্রসফায়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারাদেশে ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছে তৎকালীন সরকার। সে সরকারের মতের সঙ্গে অমিল হলে বা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতের অমিল হলে তারা পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। পুলিশ আবার তাদের সহযোগী হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগীদের ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে মিথ্যা গল্প জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিটা ক্রসফায়ারের একই রকম গল্প। এটা অবশ্যই সিস্টেমেটিক ক্রাইম (পরিকল্পিত অপরাধ) এবং একটি ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক (ব্যাপক মাত্রায় আক্রমণ)। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত অপরাধ।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে সারাদেশে যতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সব কটি মামলার কপি তারা সংগ্রহ করছেন। যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো তারা যাচাই–বাছাই করবেন। এ বিষয়ে একটি কমিটিও তারা গঠন করে দেবেন। যাচাই–বাছাই করে ক্রসফায়ারের অপরাধগুলোর মধ্যে যেগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেসব মামলার বিচারের ব্যবস্থা ট্রাইব্যুনালে করবেন।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































