Apan Desh | আপন দেশ

জামায়াতের চেয়ে ১ কোটি ভোটে এগিয়ে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:০৪, ৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:১১, ৫ মার্চ ২০২৬

জামায়াতের চেয়ে ১ কোটি ভোটে এগিয়ে বিএনপি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে ধানের শীষ মার্কায় বিএনপি পেয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা জামায়াত ইসলাম ২ কোটি ৩৮ লাখ ভোট। দুই দলের ভোটের ব্যবধান ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫টি। বিএনপি এ ভোট জামায়াতের চেয়ে বেশি পেয়েছে
 
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ দিন ২৯৯ আসনে ভোট হয়। বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন।

২৯৯ আসনের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৫ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ১৯৩ জন। ভোট পড়ার হার ৬০ দশমিক ২৪ শতাংশ। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ১১৩টি। বাতিল ভোট ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮০টি।

নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ২১১টি আসন পেয়েছেন। আর দলটির দেয়া প্রার্থীরা সব আসনে পেয়েছে বৈধ ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট।

জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬৮টি আসন। আর দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। 

আরও পড়ুন<<>>বিদেশ-সফরে রাষ্ট্রাচার সীমিত করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়ে ঘরে তুলেছেন ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ ভোট, যা বৈধ ভোটের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ছয়টি আসনে জয় লাভ করেছে। দলটির প্রার্থীরা পেয়েছেন ২২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ ভোট, বৈধ ভোটের ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন পেলেও দলটির সব প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছে ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৭টি, যার শতকরা হার ২ দশমিক ০০ শতাংশ।

খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন। ভোট পেয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩০টি, যার শতকরা হার ০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে জয় লাভ করেছে। মোট ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮১২টি, যার শতকরা হার ০ দশমিক ১৪ শতাংশ।

গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫১১ ভোট, একটি আসনে জয়লাভ করলেও দলটির ভোটের হার ০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ভোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়লাভ করলেও মোট ভোট পেয়েছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৪০টি।

একটি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি। মোট ভোট পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৭৯টি, যার শতকরা হার ০ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া ৫০টি দলের মধ্যে বাকি ৪১টি দলের কোনোটিই এক শতাংশ ভোটও পায়নি।

বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) পেয়েছে ১৬৯ ভোট, জাতীয় পার্টি-জেপি ৩৩ হাজার ৫০৮ ভোট, জাকের পার্টি ১৬ হাজার ৩৯৩ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি ২ লাখ ১০ হাজার ৫৬২ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৬ হাজার ৯২১ ভোট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি ৬১৫৩ ভোট, গণফোরাম ৫ হাজার ৬৬ ভোট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৯ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ৩১ হাজার ৯৪৬ ভোট, জনতার দল ৩৭ হাজার ৪০১ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ১৬ হাজার ২৯১ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ৩৯ হাজার ৮০৫ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ৫৮৯ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ১ হাজার ৪৯৯ ভোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম ১ হাজার ৫৪২ ভোট, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৯ ভোট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩ হাজার ৬৫১ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৬৩ হাজার ৪৯ ভোট, গণতন্ত্রী পার্টি ১৯১ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৭৭২ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোট ২ হাজার ৬১১ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৩২ হাজার ৯৯৩ ভোট, জাতীয় পার্টি-জাপা ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪২৮ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ৪ হাজার ৪১১ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ ১১ হাজার ৬৬০ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ৬০ হাজার ২২৪ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল ২ হাজার ৩৩ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ৪ হাজার ৮১৬ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ২১ হাজার ৬৯৩ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৪ হাজার ৫০৮ ভোট ও আমজনতার দল পেয়েছে ৫ হাজার ৭৬০ ভোট।

এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট পেয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ১১ ভোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৭ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ১ হাজার ৭৭২ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৬ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ৪ হাজার ৪৭৭ ভোট, নাগরিক ঐক্য ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস ৬ হাজার ৪৪৬ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ১৩ হাজার ২৩৩ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট ও গণ ফ্রন্ট পেয়েছে ৭৫৩ ভোট।

ইসিতে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আটটি দল প্রার্থী দেয়নি। এগুলো হলো—বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।

বিএনপি ২১১টি আসনের মধ্যে তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। এ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়