Apan Desh | আপন দেশ

‘সাংবাদিকদের ঐক্য অপরিহার্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘সাংবাদিকদের ঐক্য অপরিহার্য’

ছবি : আপন দেশ

যে কোনো অন্যায় বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের ঐক্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথ উদ্যোগে এ সম্মিলনের আয়োজন করে। তাদের লক্ষ্য মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা।

মতিউর রহমান বলেন, যে কোনো অন্যায় বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের ঐক্য অপরিহার্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে সবাইকে সংহত এবং সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথম আলোর সম্পাদক তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের একত্রিত থাকার, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এবং সংহতি প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমাদের এ ভাবনা থাকা উচিত নয় যে, আগামী নির্বাচিত সরকার এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অতীতেও হয়নি, ভবিষ্যতেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মতিউর রহমান জানান, গত ৫৫ বছরের মধ্যে কোনো সরকারই সাংবাদিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা থেকে বিরত থাকেনি। বিশেষভাবে ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ হয় এবং পরবর্তী সামরিক ও স্বৈরশাসনের আমলেও সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।

তিনি সাংবাদিক সমাজে দল-মত নির্বিশেষে এক জায়গায় দাঁড়ানোকে এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

গণমাধ্যম সম্মিলনে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, সমাজে ভিন্নমত, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে; এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

আরও পড়ুন<<>>আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল ভারতে

তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা নয়। এ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সেগুলোকে রাষ্ট্র, সরকার, আইনগতভাবে কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এর জন্য নিজেদের মধ্যে একদিকে যেমন এ সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন, তেমনি সম্মিলিত প্রয়াসগুলো গ্রহণ করার প্রয়োজন।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি বলেন, সমস্ত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে গোটা সমাজের মধ্যে আমাদের এ চিন্তার সঞ্চার করতে হবে যে, সংবাদপত্র অপরাপর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ২০০, ৫০০ কিংবা ১০ হাজার সাংবাদিকের মনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবারই একমাত্র হাতিয়ার নয়। এগুলো যদি সচল না থাকে, সক্রিয় না থাকে, এগুলো যদি উচ্চকণ্ঠ না হতে পারে, তবে গোটা সমাজের মধ্যেই নানা ধরনের অধিকার ব্যাহত হতে বাধ্য।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এ হামলা এক ধরনের ট্রমা। হয়ত আমার মধ্যে সারাজীবন কাজ করবে। এ যে আক্রমণের ব্যাপারটা, বিশেষ করে ডেইলি স্টারের অফিসে যে আক্রমণটা, তা মোটেও একটা ভবনের ওপর আক্রমণ ছিল না। কারো যদি ক্ষোভ থেকে থাকে, তার কারণে সেই ভবন ভাঙা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর বিকাশের, সভ্যতার বিকাশের এই পর্যায়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় কয়েকজন সাংবাদিককে ভেতরে রেখে চারদিকে আগুন দেয়া, দমকল বাহিনী আসতে বাধা দেয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ এটা। আজকে এ দুই পত্রিকায় হামলা হয়েছে, কালকে অন্য কোথাও হবে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে আমি মনে করি, আমাদের এ সংঘবদ্ধতা অত্যন্ত জরুরি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়