ছবি: আপন দেশ
কোন একদিন শিখেছিলাম, সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আজ দেখছি, সে শিক্ষা ভুল। যে সমাজে, যে সভ্যতায় সততার পুরস্কার পেতে হয় লাঞ্ছনা, সে সমাজ সভ্যতায় সততার নতুন সংজ্ঞা আনতে হবে। অথবা সততা ত্যাগ করতে হবে।
অনেককেই দেখা যায়, কোন সাদামাটা সরল লোককে নিয়ে যত্রতত্র যারতার ব্যঙ্গোক্তির শিকার হতে। কেউ একজন হারাম খায় না, হারাম খাওয়া তার চরিত্রে নেই, তাকে প্রকাশ্যে এক হারামখোর বলছে, ‘তোর বেটা হারাম খাবার যোগ্যতা আছে? তোকে কে কোন যোগ্যতায় দু `পয়সা দিতে যাবে?’
যে অহংকারে এসব হেডম প্রদর্শনের কথা বলছে, সে অবৈধ রিজিক ভক্ষণকারী, লুটেরা, টাউট, বাটপার। পাশে বসে কুত্তা স্বভাবের লোকটাকে সমর্থন করে আরেকজন তাল মিলিয়ে যাচ্ছে। সেখানে একজন সৎ লোকের সৎ থাকা কতোটা কষ্টের, তা একবার ভাবুন তো।
যে অন্যের হক নষ্ট করে না, তাকে বলা হচ্ছে অথর্ব। সে যেন সভ্যতার বিষবৃক্ষ। সত্যিকার অর্থে যে মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে কাঁটা, সে নন্দিত। তার চারপাশে হাততালির অভাব নেই। এমন সমাজে একজন সরল লোক নিজেকে কিভাবে ভালো রাখবে? তার নষ্ট পথের পথিক হওয়া ছাড়া আর কি উপায় থাকে?
যে ভদ্রতার মুখোশ পরে হিংস্র হায়েনাকে বুকে লালন করে না, ভালোবাসার আহবানে সবার সাথে মিলে মিশে চলতে চায়, চলে; তাকে তার কাছের মানুষ গুলো বলে পাগল। তার সহজ জীবন যাপনের পথে কাঁটা বিছিয়েই ক্ষান্ত থাকে না, তার আত্মার কেন্দ্র বিন্দুতে ঢুকিয়ে দেয় মারণাস্ত্র, তিলে তিলে কচলিয়ে তাকে হত্যা করে, এমনকি জীবিত অবস্থাতেই কবরের মাটি চাপা দিতে সভ্যতার সুনিপুণ নখর খামচে ধরে, তার সহজ থাকার উপায় কী?
আরও পড়ুন <<>> সোয়েব মোহাম্মাদের কবিতা ‘বাংলার চৈত্র’
হ্যাঁ, মেনেছি । নষ্টের সাথে পাল্লা দিয়ে নষ্ট হওয়া যাবে না। জারজ চরিত্রের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে ভ্রষ্ট হওয়া যাবে না। কিন্তু তা কতোটা দুঃসহ যন্ত্রণার তা একবার ভাবুন তো।
হ্যাঁ, সত্য প্রতিষ্ঠায় অনন্ত বেদনা থাকে। সে বেদনার পথ পাড়ি দিয়েই মকসুদে মঞ্জিলে পৌঁছাতে হয় । আর যিনারা পারেন, তিনারাই স্মরণীয় বরণীয় হয়ে থাকেন। তিনারাই মহাসত্যের আলিঙ্গনে অদৃশ্য শক্তির অংশীদার হতে পারেন।
পরিশেষে বলতে হয় , সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা এবং সত্য সবসময় সুন্দর।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































