Apan Desh | আপন দেশ

কাঁধের ব্যথার মুক্তি মিলবে ৩ ব্যায়ামে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ২৪ জুন ২০২৬

কাঁধের ব্যথার মুক্তি মিলবে ৩ ব্যায়ামে

ছবি : সংগৃহীত

ঘুম থেকে ওঠার পর কাঁধে তীব্র ব্যথা। হাত নাড়াতেও কষ্ট হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে অ্যাডেসিভ ক্যাপসুলাইটিস বা সাধারণ ভাষায় ফ্রোজেন শোল্ডার বলা হয়।

এটি সাধারণত ঘটে যখন কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুগুলো বা ক্যাপসুল ফুলে শক্ত হয়ে যায়। এ জড়তা ও অসহ্য যন্ত্রণা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— নিয়মিত কিছু স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করা।

আর সাধারণত ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হৃদযন্ত্রের অসুখ থাকলে ফ্রোজেন শোল্ডারের ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গেলে কিংবা কোনো চোট-আঘাত থেকেও এ রোগ হতে পারে। ফ্রোজেন শোল্ডারের সমস্যা থাকলে কীভাবে যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাবেন, সে বিষয়টি একান্তই জানা প্রয়োজন।

রাতে দিব্যি ঘুমিয়েছেন। কিন্তু সকালবেলা চোখ খোলার পর আর হাত নাড়তে পারছেন না। কাঁধ এমনভাবে শক্ত হয়ে গেছে যে, নড়চড়া করার কোনো উপায় নেই। রোগটি সম্পর্কে অনেকেই জানেন। ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ নামে বেশি পরিচিত হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’। এ রোগে আক্রান্ত হলে ঘাড়, কাঁধের পেশি ও অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 

চিকিৎসকরা বলেন, যে অস্থিসন্ধি দ্বারা বাহু ও কাঁধ সংযুক্ত থাকে, সে অস্থিসন্ধিতে অবস্থিত হাড়, লিগামেন্ট এবং টেন্ডনগুলো কিছুটা ক্যাপসুলের মতো টিস্যু দ্বারা আবৃত থাকে। সে ক্যাপসুল ফুললে বা শক্ত হয়ে গেলে ফ্রোজেন শোল্ডার দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন <<>> অন্ধকারে ফোন ব্যবহারে যত ক্ষতি

এ বিষয় চিকিৎসক যুগল কারখুর বলেন, ফ্রোজেন শোল্ডার থাকলে ব্যায়াম সম্পর্কে খুব সচেতন থাকতে হবে। ভুল পদ্ধতি, আর ভুল ব্যায়াম বেছে নিলে যন্ত্রণা বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য কিছু স্ট্রেচিংয়ের মাধ্যমে ফ্রোজেন শোল্ডারের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক কায়দা জানা ভীষণ জরুরি।

চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে ব্যায়াম করে নিজেকে রক্ষা করবেন—

পেন্ডুলাম স্ট্রেচ: আপনার শরীরের ওপরের অংশ সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দাঁড়ান। এরপর একটি হাত টেবিল বা চেয়ারের ওপর রাখুন। অন্য হাতটি আলগাভাবে ঝুলিয়ে ধীরে ধীরে ছোট বৃত্তাকারে ঘোরান— প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং পরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। এভাবে পাঁচবার এক হাত ঘোরানোর পর, তারপর অন্য হাতটি পাঁচবার ঘোরান।

ফিঙ্গার ওয়াক ওন দি ওয়াল: এ ক্ষেত্রে দেয়ালের সামনে রোগীকে দাঁড়াতে হবে। এবার একটি হাত ঝুলিয়ে রেখে অন্য হাতের পাতা দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে আঙুলের সাহায্য দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার অভ্যাস করুন। এ হাত বদল করে অন্য হাতের আঙুলের সাহায্যে একই পদ্ধতিতে দেয়াল বেয়ে উঠতে হবে।

টাওয়েল স্টেচ: ডান হাতে তোয়ালে নিয়ে আপনার শরীরের পেছনের দিকে মাথার ওপরে হাতটি তুলে রাখুন। বাঁ হাতটি দিয়ে তোয়ালের শেষ প্রান্তটি ধরুন। এবার ডান হাতটি যতটা সম্ভব ওপর দিকে স্ট্রেচ করুন, আর বাঁ হাতটি একই সঙ্গে নিচের দিকে স্ট্রেচ করুন। দুই হাতে টান অনুভব করবেন। ৩০ সেকেন্ড করার পর হাত বদল করুন।

আপন দেশ/এসএস

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়