ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ছোট শিশুদের স্কুল বা ডে-কেয়ারে পাঠান, তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন এ পরিস্থিতিতে স্কুলে পাঠানো কি নিরাপদ?
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সেন্টার্স ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে আশপাশের ৯০ শতাংশ অ-টিকাপ্রাপ্ত শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা নেয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—
১. টিকার পূর্ণ ডোজ না নেয়া
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া
৩. ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা
৪. স্কুলে পাঠানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে, তাহলে ভিড়যুক্ত জায়গা যেমন স্কুল বা ডে-কেয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে এর মানে এ নয় যে সব শিশুকে স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে হবে। বরং কিছু বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:
ক. শিশুর টিকাদান সম্পূর্ণ হয়েছে কি না
খ. স্কুলে অসুস্থ শিশুদের জন্য বাড়টি সতর্কতা বজায় রাখে
গ. শিশু অসুস্থ হলে তাকে ছুটি দেয়া যাতে সে বিশ্রাম নিতে পারে
ঘ. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না
ঙ. শিশু স্কুল থেকে ফেরার পর তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেয়া
চ. চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ সময় হামে আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।
অভিভাবকদের করণীয়: শিশুর সব ডোজ টিকা সম্পন্ন করুন; শিশু অসুস্থ হলে তাকে স্কুলে পাঠানো যাবে না; জ্বর, র্যাশ বা কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; সংক্রমণ বেশি থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন <<>> শিশুকে হাম থেকে বাঁচাতে যা জানা জরুরি
হামে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি কারণ রোগটিতে আক্রান্ত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সে কারণে নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
হাম শুধু একটি সাধারণ রোগ নয় এটি শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি। সঠিক টিকাদান, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলেই শিশুকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
আপন দেশ/এসএস




































