Apan Desh | আপন দেশ

ঘরেই লাগাতে পারেন ঔষধি গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১০, ৩১ জানুয়ারি ২০২৪

ঘরেই লাগাতে পারেন ঔষধি গাছ

ঘর সাজাতে আজকাল অনেকেই ইনডোর প্লান্ট ব্যবহার করেন। এসব গাছ ঘরের সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। এসব ইনডোর প্লান্টের জায়গায় নানা ধরনের ঔষধি গাছও লাগাতে পারেন। রাখতে পারেন ছাদের টবে, ব্যালকনিতে।

অ্যালোভেরা, তুলসী, থানকুনি, পুদিনাসহ নানা ধরনের ঔষধি গাছ বিভিন্ন রোগ সারাতে বেশ উপকারী। এসব গাছ থাকলে ঘরের বাতাসও থাকে নির্মল ও বিষমুক্ত। 

থানকুনি পাতা : ছোট্ট পরিসরে টবের মাটিতে লাগানো যাবে থানকুনি। এই পাতা পেটের নানা ধরনের রোগ নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। খনিজ লবণ ও পানিসমৃদ্ধ থানকুনি পাতা মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায়, আলসার দূর করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, অনিদ্রা দূর করে, লিভার সুস্থ রাখে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পেন্টাসাইক্লিক এসিডে ভরপুর থানকুনি পাতা নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে খেতে হবে। 

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী: এটি সুপরিচিত একটি ইনডোর প্লান্ট। এই গাছের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। অ্যালোভেরাতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, বি, সি, ই,। ফলিক এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ অ্যালোভেরা ত্বকের যত্নে বহুকাল আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই পাতার নির্যাস বলিরেখা দূর করে ত্বককে মসৃণ ও নরম ও উজ্জ্বল করে তোলে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত অ্যালোভেরা রস খেলে উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যালোভেরা চুলের জন্যও খুব উপকারী।

গাঁদা: গাঁদা ফুল ঔষধি গুণে ভরপুর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে গাঁদা ফুলে। দাঁতে ব্যথা থাকলে, মুখে দুর্গন্ধ হলে গাঁদা ফুলের পাতা পুড়িয়ে বেটে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তা ছাড়া অনেক আগে থেকেই গাঁদা ফুল সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার হয়ে আসছে। নারকেল তেলের সঙ্গে গাঁদা ফুলের পাপড়ি বেটে মাথার তালুতে দিলে খুশকির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। গাঁদা ফুলের পাতায় রয়েছে ঔষধি ক্ষমতা। কোনো স্থান কেটে গেলে বা ক্ষত হলে গাঁদা ফুলের পাতা বেটে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। অর্শরোগ নিরাময়ের গাঁদা ফুল ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। 

তুলসী গাছ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর তুলসী পাতা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের নানা রোগ যেমন– সর্দি-কাশিসহ শ্বাসকষ্ট দূর করে। মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। মাংসপেশির খিঁচুনি রোধ করতে সহায়তা করে তুলসী পাতার রস। তুলসী পাতায় রয়েছে কিডনির পাথর দূর করার ক্ষমতা। রক্তের ইউরিক এসিডের লেভেল ঠিক রাখে তুলসী পাতা। তুলসীর এসেনসিয়াল অয়েল ত্বকের উপকার করে। বর্তমানে ক্যানসার প্রতিরোধেও তুলসীর ব্যবহার বাড়ছে। তুলসী পাতার উপকারিতা পেতে সকালে মধুর সঙ্গে চিবিয়ে খেতে পারেন। আবার চাইলে পানিতে ফুটিয়েও তুলসী পাতা খেতে পারেন। 

পুদিনা পাতা: খাবারের স্বাদ বাড়াতে পুদিনা পাতার জুড়ি নেই।  প্রাচীন গ্রিক, রোমান এবং মিসরীয়রা হাজার হাজার বছর আগে ওষুধ হিসেবে পুদিনা পাতা ব্যবহার করতেন। বর্তমানে পুদিনার নির্যাস থেকে তৈরি চা, ক্যাপসুল খান অনেকে। পুদিনা পাতার তৈরি তেল ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এ ছাড়া পুদিনা পাতা পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, সাইনাসের সমস্যা কমায়। পাশাপাশি মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কাজে পুদিনা পাতা আদর্শ উপাদান। এর নির্যাস সমৃদ্ধ ‘মাউথওয়াশ’ মুখের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করে, সুস্থ রাখে দাঁত ও মাড়ি।

ল্যাভেন্ডার: ল্যাভেন্ডার সবার কাছে প্রিয় একটি ফুল। এ গাছ নিজেকে ও অন্য সব ইন্ডোর প্ল্যান্টকে পোকা-মাকড়ের হাত থেকে মুক্ত রাখে। অনিদ্রা রোগ দূর করতে শোবার ঘরে ল্যাভেন্ডার ফুল গাছ রাখতে পারেন। মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা হলে এ ফুলের ঘ্রাণে খুব দ্রুত ব্যথা সারে। পানিতে একমুঠো ল্যাভেন্ডার ফুল দিয়ে গোসল করলে আরাম অনুভব করবেন। ত্বকের কোন সমস্যা থাকলেও সেরে যাবে।

আপন দেশ/এমআর

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়