Apan Desh | আপন দেশ

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত

ছবি : সংগৃহীত

চীনের তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ৩ শতাধিক বাড়ি ধসে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বার্তাসংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে।

১৯৫০-এর দশকে তিব্বতকে নিজেদের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পর চীন অঞ্চলটিকে ‘তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করে। বাচেন কাউন্টি ওই অঞ্চলের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। ভূমিকম্পে আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ায় ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে দুর্গম ও উঁচু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>সৌদি বিমানবন্দর-তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, নিহত ৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকলে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তিব্বত বরাবরই ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে থাকা একটি অঞ্চল। ২০২৩ সালে চীনের কাছাকাছি অবস্থিত পার্বত্য গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এরও দুই মাসের কম সময় আগে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপাল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে আরও বেশি অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে তিব্বত। মূলত চীনের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর একটি হচ্ছে এটি।

তিব্বতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণও আরোপ করে থাকে। ফলে এ ধরনের দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমই হয়ে ওঠে প্রধান উৎস।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়