Apan Desh | আপন দেশ

দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ট্রেনের পর বন্ধ ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ট্রেনের পর বন্ধ ইন্টারনেট

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।

এসব ক্যামেরায় শব্দ ধারণের সুবিধাও রয়েছে। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের আগে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

মেট্রোরেল ও দিল্লিগামী ট্রেন বন্ধের পর জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। খবর এনডিটিভি ডটকম-এর।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লি মেট্রো ও রাজধানীতে আসা ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। 

আদালত বলেছিল, মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না। অর্থাৎ, কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত নয়।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে  ইন্টারনেট বন্ধ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়। নির্দেশটি এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিধিমালার ৩ নম্বর বিধির উপবিধি ১ এবং ২০২৩ সালের টেলিযোগাযোগ আইনের ২০ নম্বর ধারার ২(খ) উপধারা অনুযায়ী মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের অনুরোধ বিবেচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।

সেই অনুযায়ী, শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের প্রযুক্তির মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে জন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। 

এতে তরুণ বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আন্দোলনের খবর সংগ্রহকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। 

মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব হয়েছিল। তখন ইন্টারনেট বন্ধের আওতা ছিল দেড় কিলোমিটার, যা এবার নির্ধারিত এলাকার অর্ধেকেরও কম।

তবে পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় পড়বে দিল্লির কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জঙ্গপুরার কিছু অংশ বা পুরো এলাকা।

এর আগে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেট।

এ ছাড়া শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে অন্যান্য রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশন থেকে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। 

তবে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন স্টেশনের তালিকা সংশোধন করে ৫৭ থেকে কমিয়ে ৪৫টি করে।

আরও পড়ুন <> ককরোচদের সমাবেশে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ

যাতায়াতে বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন : শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দিল্লি মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া যায় না। কোনো পরিষেবার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, তরুণ ও বয়স্ক—সব বয়সের মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।

আদালত আরও বলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্যই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সীমিত করতে চাইলে তারা তা করতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সবকিছু বন্ধ করে মানুষকে যাতায়াতের কোনো উপায় ছাড়াই ফেলে রাখা হবে।

শুনানিতে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের রয়েছে।

আদালত তার আদেশে উল্লেখ করে, জারি করা নির্দেশনাগুলো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এতে জরুরি গণপরিবহনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। 

মেট্রো ও অন্যান্য ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে—আদালত এ বিষয়টি তুলে ধরার পর সলিসিটর জেনারেল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাতে সম্মত হয়েছেন।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়