ছবি: সংগৃহীত
বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি গায়ক, গিটারবাদক ও সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চু। রোববার (১৬ আগস্ট) তার ৬৪তম জন্মদিন।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ার এক বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পারিবারিক ডাকনাম ছিল রবিন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। বাবার উপহার দেয়া প্রথম গিটার হাতে নিয়েই শুরু হয় তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রা।
আইয়ুব বাচ্চুর বাবা ইশহাক চৌধুরী এবং মা নুরজাহান বেগম। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরিবারের কেউ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে বাবার দেয়া গিটার বাজানোর প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ।
১৯৭৭ সালে শুরু হয় আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতজীবন। পরের বছর তিনি ব্যান্ড ফিলিংসে যোগ দেন। তার প্রথম গান ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প’। পরে যোগ দেন সোলস ব্যান্ডে। ১৯৮০ সাল থেকে পরবর্তী এক দশক এ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সোলস ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে নিজেই গড়ে তোলেন ব্যান্ড এলআরবি। শুরুতে ব্যান্ডটির পূর্ণ নাম ছিল লিটল রিভার ব্যান্ড। একই নামে অস্ট্রেলিয়ায় আরেকটি ব্যান্ড থাকায় পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লাভ রানস ব্লাইন্ড।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে আইয়ুব বাচ্চু বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও গান করেছেন। ১৯৯৯ সালে ‘লাল বাদশা’ ও ‘আম্মাজান’, ২০০০ সালে ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ ও ‘রং নাম্বার’, ২০০৯ সালে ‘চাঁদের মতো বউ’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’, ২০১৩ সালে ‘টেলিভিশন’ এবং ২০১৪ সালে ‘এক কাপ চা’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তার গান রয়েছে।
এর মধ্যে ‘আম্মাজান’ গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
‘সুরের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। এরপর ১৯৮৮ সালে ‘ময়না’ অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আসে ‘কষ্ট’। পরে ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘দুটি মন’, ‘কাফেলা’সহ একের পর এক একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন <<>> অভিনেত্রী রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
তার উল্লেখযোগ্য একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘প্রেম প্রেমের মতো’, ‘পথের গান’, ‘ভাটির টানে মাটির গানে’, ‘জীবন’, ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’, ‘রিমঝিম বৃষ্টি’, ‘বলিনি কখনো’ ও ‘জীবনের গল্প’। ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ ছিল বাদ্যযন্ত্রনির্ভর অ্যালবাম।
এলআরবির প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এরপর ‘ব্যান্ডের সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘ফেরারী মন’, ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নেই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’সহ একাধিক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনেক মিশ্র অ্যালবামেও কণ্ঠ দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। নব্বইয়ের দশকে এলআরবি ও ফিলিংস যৌথভাবে ‘ক্যাপসুল’ ও ‘স্ক্রু ড্রাইভার’ নামে দুটি শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম উপহার দেয়।
সংগীতের মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চু দেশ-বিদেশের অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা অর্জন করেন। তার কণ্ঠ, গিটারবাদন ও সংগীত পরিচালনার স্বতন্ত্র ধারা তাকে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে দেয়।
তবে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ কিংবদন্তি শিল্পী। তার আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি ভক্ত, সহকর্মী ও সংগীতপ্রেমীরা।
বেঁচে থাকলে আজকের দিনটি প্রিয় মানুষদের ভালোবাসায় মুখর হয়ে উঠত নগরীর এবি কিচেন স্টুডিও। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে তার গান ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আজও তিনি বেঁচে আছেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে। জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্মরণ করছেন প্রিয় এ শিল্পীকে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































