ছবি: আপন দেশ
বাড়তি দাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের। বাজারে বেকারি পণ্যের দাম এখনও কমেনি। ফলে বাড়তি দামে পণ্য কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে।
ঢাকায় ছোট-বড় টং দোকান ও লাইভ বেকারিগুলোতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে কেক, বিসকুট, পাউরুটিসহ নানা ধরনের বেকারি পণ্য।
গেল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন খরচের কারণে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর আপাতত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্রেড, বিসকুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি।
তবে খুচরা পর্যায়ে বেড়ে যাওয়া দাম কমার লক্ষণ নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য।
যদিও বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি জানান, এখনও বর্ধিত দাম স্থগিতের সিদ্ধান্তে বহাল আছে। তবে, লোকসান কাটাতে অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন, বলেও স্বীকার করেন তিনি।
বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্রেড, বিসকুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন জানান, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, আমরা সরকারি সিদ্ধান্তে এখন একমত আছি। ওইগুলোর দাম বাড়লে যেটা অটোমেটিক্যালি বাড়বে।
পণ্যের যে কস্টিং যেভাবে পড়ে, সেভাবে করতেছে। কেউ ১০ টাকা বিক্রি করতে পারছে, কেউ ১২ টাকা করতেছে, কেউ ১৫ টাকা করতেছে। এটা তো দোকানদাররা লাভ করতেছে।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হচ্ছে পাউরুটি, কেকসহ অন্য বেকারি পণ্য।
দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, এখন ১০ টাকার মাল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলে, পোষায় না। এখন আবার ওই ১৫ টাকায় বিক্রি করি। আগে যে ১৫ টাকা বিক্রি করতাম, যেটার আবার সাইজে একটু ছোট হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন <> মার্কিন ভিসার ব্যবহার নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা
পণ্যের সাইজে ছোট, কিন্তু দাম বাড়তি। প্রতি পিস ৫ টাকা করে বাড়ছে। রুটিতে ৫ টাকা, কেকে ৫ টাকা, সবকিছুতে ৫ টাকা বাড়ছে।
এ ছাড়া লাইভ বেকারির ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও কাঁচামালের বাড়তি দামের কারণে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।
লাইভ বেকারির এক কর্মচারী জানান, গ্যাসের বোতল একটা ৭ হাজার ৫০০ টাকা হয়ে গেছে। ৫ হাজার টাকার গ্যাস ছিল। ছোট বোতল ছিল ২ হাজার টাকা, এখন হয়ে গেছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ময়দা ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা, হয়ে গেছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। মানে, সবকিছুর দামই একদম বাড়তি, আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।
এদিকে কয়েক ধাপে সিদ্ধান্ত হওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা।
তারা বলেন, চায়ের দোকানে যে কেক আজ সকালে একটা খেয়েছি, একদমই ছোট। আমি ভাবছি, মনে হয় ১০ টাকাই হবে। খাওয়ার পরে বলে, ১৫ টাকা। এটা আমার কাছে কষ্ট মনে হয় যে, দৈনিক যদি আমি দুই বেলা নাস্তা খাই, আমার ৩০ টাকার বেশি যায়। যে ৩০ টাকা অনেক কিছু না আমার জন্য।
তারা বলেন, চায়ের দোকানে যে কেক আজ সকালে একটা খেয়েছি, একদমই ছোট। আমি ভাবছি, মনে হয় ১০ টাকাই হবে। খাওয়ার পরে বলে, ১৫ টাকা। আমি যদি দৈনিক দুই বেলা নাস্তা খাই, আমার ৩০ টাকার বেশি খরচ হয়।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































