ছবি: সংগৃহীত
প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ডলারের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে ডলারের দামে এ উত্থান দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকগুলো এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫-৩৫ পয়সা দরে কিনছিল। সোমবার (০৯ মার্চ) সে দর বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার ও খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন যা ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০-৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।
অন্যদিকে খোলাবাজারে নগদ ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা ৭০-৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০-৬০ পয়সা। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতিতে পড়ে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় কিনতে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দিচ্ছে। এতে আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দর বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ছিল।
একজন আমদানিকারক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো হঠাৎ আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন <<>> একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, ভরিতে কত বাড়ল?
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে। গত ৩ মার্চ গড় দর ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি না বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে কারণে বাজারে এখনো ডলারের দর ওই সীমার ওপরে ওঠেনি। তবে আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়লে এবং সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও সহায়তা দিতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা এবং সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
আপন দেশে/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































