Apan Desh | আপন দেশ

আ. লীগের সাবেক ৭ এমপিসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:৫৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আ. লীগের সাবেক ৭ এমপিসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ফাইল ছবি, আপন দেশ

আওয়ামী লীগের সাবেক সাত এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রয়েছে। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। এসব মামলায় সাবেক এমপিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, ভাই ও সন্তানদেরও আসামি করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন-কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের হাজী রহম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এক কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

একই আসনের সাবেক এমপি আবদুর রউফের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে আবদুর রউফসহ দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। 

আরও পড়ুন<<>>মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ডিজি হাসান মারুফকে শোকজ, বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ

কুষ্টিয়া-০১ আসনের সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুই কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রেজাউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা কম দেখানো হয়েছে। এক কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদ বিবরণীতে সাত কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দেয়ার অভিযোগে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আবু জাহিরের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করেছে দুদক।
 
এ ছাড়া তার নামে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। চার ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগে দুদক আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিন কোটি ৮৪ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে  দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দুদক আইন এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সে সঙ্গে তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে এক কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। স্ত্রীর ওই সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে নয়নসহ দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮১৪ টাকা লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, সাবেক বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৩টি মামলা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিমাণ যথাক্রমে এক কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ও ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকা।

এদিকে যশোরের সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে ২টি মামলা অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। অভিযোগের পরিমাণ ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ ও ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকা।

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবসহ দুজনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে ২টি মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়