ছবি: আপন দেশ
আলোচিত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৬ কোটি ৭৭ লাখ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ধানমন্ডিস্থ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এসব সম্পদের রেকর্ডপত্র উদ্ধার করেছে সংস্থাটির অ্যানফোর্সমেন্ট টিম।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডিস্থ বাসা নং-৮, ফ্ল্যাট নং-ই-ত, রোড-১২ (পুরাতন-৩১)এ অভিযান চালায় দুদক। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারি সকাল ১১ টা থেকে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ম্যানেজার, সিকিউরিটি এবং আনিস আলমগীরের স্ত্রী-সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
তল্লাশিতে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের মধ্যে রয়েছে- (এক) দলিল নং-৩৩৩ তারিখ: ১৬/০১/২০২৫ খ্রি: মূলে ফ্ল্যাট ক্রয়। আয়কর নথিতে ফ্ল্যাটের তথ্য গোপন করা হয়। ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার একটি এগ্রিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। (দুই) মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ধানমন্ডি শাখার ২৮/০৫/২০২৫ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৮ টি ফিক্সড ডিপোজিটের ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব এফডি অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। (তিন) রয়েছে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। (চার) আই এফ আই সি ব্যাংক, ধানমন্ডি শাখার, ১২/১০/২০২৫ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৪ টি ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দুদকের অভিযানে আনিস আলমগীরের বাসা থেকে মোট ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার রেকর্ডপত্র জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>> দশম বেতন বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণার দাবি বিএফইউজে–ডিইউজের
উল্লেখ্য, গ্রেফতার হওয়ার সময় পর্যন্ত আনিস আলমগীর গত ৫ বছর ধরে কোনো সংবাদ মাধ্যমে চাকরি করেননি। তা সত্ত্বেও তার কোটি কোটি টাকার সম্পদের রেকর্ডপত্র জব্দ হওয়া বিস্মিত দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হয় মামলাটি। ওই মামলায় বৈধ উৎসের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৮ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে গত ২৮ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক মো: আক্তারুজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায় আদালত।
এজাহারের তথ্য মতে, আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা। প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা । সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত। ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তার ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে। যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ অতিরিক্ত। এ অর্থকে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় দুদকের এজাহারে।
আরও পড়ুন<<>> জাতীয় নির্বাচন স্থগিতের দাবি ১৩৫ সাংবাদিকের
গত বছর ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাবাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাকে ঢাকার চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হয়।
ওই দিন আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত জামিন নামন্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাকে দুদকের মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ করা হয়।
এদিকে আনিস আলমগীরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও মুক্তি দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ডিইউএমসিজেএএ)। মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল।
দুদক সূত্র বলছে, গণমাধ্যমের আরও কয়েকজনকে নজরে রেখেছে সংস্থাটি। ইতোপূর্বে বিএফআইইউ বেশ কিছু সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবে বিবরণী চেয়েছিল বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































