ফাইল ছবি, আপন দেশ
ময়মনসিংহ জংশন হয়ে পার্শ্ববর্তী জামালপুর, ভৈরব ও মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী ৮টি লোকাল ও মেইল ট্রেন ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব রুটের মোট ২৩টি রেলস্টেশনের কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের যাত্রী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একদিকে যেমন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গুণতে হচ্ছে কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের তারাকান্দার বিসকা, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, ধলা, বাইগনবাড়ি; নেত্রকোনার হিরণপুর, বাংলা, অতিথিপুর এবং জামালপুরের দুরমুট, বাউশিসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ২৩টি স্টেশনে আগের মতো ট্রেন থামে না। স্টেশন মাস্টার ও লোকবলের অভাবে এসব স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বিসকা বা ঈশ্বরগঞ্জের মতো গ্রামীণ এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত নারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তরকারি, শাকসবজি ও তৈজসপত্র ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে এনে বিক্রি করতেন। এতে ব্যয় কম হতো। ট্রেন বন্ধ থাকায় তারা এখন বিকল্প যানবাহন ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ট্রেনে মাত্র ২০ থেকে ৪০ টাকায় গন্তব্যে যাওয়া যেত। এখন বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করতে প্রতিজনে ২০০ টাকার বেশি ভাড়া গুনতে হয়। সড়কপথে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, দুটি প্রধান কারণে দীর্ঘমেয়াদি এ সংকট তৈরি হয়েছে।
১. তীব্র ইঞ্জিন সংকট: ট্রেনগুলো চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যকর লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন রেলওয়ের ময়মনসিংহ বহরে নেই।
২. জনবল সংকট: স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যান ও প্রয়োজনীয় কর্মচারী নেই। এতে ছোট ও মধ্যম স্টেশনগুলোর প্রশাসনিক ও ক্রসিং সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন<<>>সিকদার গ্রুপের বিলিয়ন ডলার পাচার, বিপাকে ১১ ব্যাংক
বর্তমানে ময়মনসিংহ-ভৈরব রুটের দুই জোড়া, ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটের দুই জোড়া লোকাল ট্রেনসহ ময়মনসিংহ-দেওয়ানগঞ্জ ও ধলেশ্বরী মেইলসহ মোট ৮টি ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
রেলপথের অচলাবস্থা ও স্থানীয়দের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থানীয় ও উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, মূলত তীব্র ইঞ্জিনসংকটের কারণে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন হয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি লোকাল ও মেইল ট্রেন বিভিন্ন সময়ে বন্ধ করতে হয়েছে। এ ছাড়া লোকবল সংকটের কারণে অনেক আগে থেকেই গ্রামপর্যায়ের বেশ কিছু রেলস্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এসব রুট বা ট্রেন কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি। আমরা যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন ও স্টেশনগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করতে নিয়মিত বিরতিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি ও প্রস্তাবনা পাঠাচ্ছি।
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, রেলওয়ের জন্য নতুন করে ৩০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন ইঞ্জিনগুলো বহরে যুক্ত সম্পন্ন হলেই ময়মনসিংহের রুটে বন্ধ হয়ে থাকা লোকাল ট্রেনগুলো ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহের নাগরিকরা জানান, লোকাল ও মেইল ট্রেন কেবল ভ্রমণের বাহন নয়। এটি দূরদূরান্ত থেকে আসা নিম্নবিত্ত মানুষের রুটি-রুজির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ইঞ্জিনের দোহাই না দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালু ও স্থগিত স্টেশনগুলো সক্রিয় করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































