ছবি: আপন দেশ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার দাবিতে তৃতীয়বার সড়ক অবরোধ করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা বিপাকে পড়েছেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেকের বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও স্লোগান দিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটক ও যানবাহন চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশনায় সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
সাজেক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সাজেক থেকে গাড়ি ছাড়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছিল। তবে গাড়ি ছাড়ার বিষয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও পড়ুন<<>>
আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি জানিয়েছে, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে।
এর আগে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে শতাধিক সাধারণ মানুষ ভয়ভীতি ও মৃত্যুর হুমকির মুখে ঘরছাড়া হয়েছেন বলে দাবি তাদের। আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর তিন দফা দাবিতে প্রথমবার অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবার অবরোধের ডাক দেয়া হয়। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দফায় আবারও অবরোধ শুরু হয়েছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































