Apan Desh | আপন দেশ

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষক্রিয়া, মৃত্যু বেড়ে ৮

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫২, ১৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৭:০১, ১৪ আগস্ট ২০২৬

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষক্রিয়া, মৃত্যু বেড়ে ৮

ছবি: আপন দেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। এ ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন– মো. রানা (২৫), খোকন (২৬), হাবিবুর রহমান (৪২) এবং দুই ভাই মোহাম্মদ নাসির (৪৭) ও মোহাম্মদ মনসুর (৫৫)।

সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে পুরোনো এলএনজিবাহী একটি জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। জাহাজের ভেতরে একটি বদ্ধ রুমে নামেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন সবাই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

আরও পড়ুন<<>>চট্টগ্রামে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ ৫ জনের মৃত্যু

নজরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড গ্রিন ক্যাটাগরির হলেও শ্রমিকরা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার যে ব্যবস্থা থাকার কথা তা ছিল না। এমনকি এ প্রতিষ্ঠানে কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। যে কারণে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। 

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি আগে এলএনজি বহন করত।

তার ভাষ্য, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক ও অন্যান্য অংশ সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জাহাজের ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তৌফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল বলে জানান তিনি।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিলের ঘটনায় আহত ছয় জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুই দফায় আরও তিন জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত আট জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা:

জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়