ছবি: আপন দেশ
দখল আর দূষণের কবলে পড়ে পশ্চিম বগুড়ার আদমদীঘি শহরের ধার ঘেঁষে প্রবাহিত রামশালা খালটি মৃত প্রায় এখন। যে খাল দিয়ে এক সময় নৌকা চলাচল করতো, এখন সেই খাল পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এ খালের বেশির ভাগই ময়লা-আবর্জনায় ভরা। খালপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রিকশার গ্যারেজ। ভ্যারাইটি শপের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, কাঁচা তরকারীর উচ্ছিষ্ঠাংশ ও বাজারের বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনায় খালের দুই পাশ ভরাট হয়ে গেছে। ময়লার ভাগাড়েও গজিয়েছে বিভিন্ন গাছের চারা।
ঘড়-বাড়ীর সব ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলা হচ্ছে। এদিকে, কচুরিপানা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে থামিয়ে দিয়েছে। মরা খালটি এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে কষ্টকর হয়ে পড়েছে জনসাধারনের চলাচল। বিশেষ করে, ব্রিজ পারাপারের সময় এক হাতে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। মশা আর দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রামশালা খালের ওপর নির্মিত হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। ওই ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দখল করে গড়ে উঠেছে অনেক দোকান ও ঘড়-বাড়ী। এদিকে, খালের দুই পাশে দেদারছে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। ফলে উভয় দিক থেকে সরু হয়ে এসেছে ব্রিজের মুখ।
পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক দূর পর্যন্ত আটকে আছে কচুরিপানা। অতিরিক্ত কচুরীপানা ও ময়লা-আবর্জনার কারনে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। পানি বদ্ধ থাকায় দূর্গন্ধ এবং মশাদের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে খালটি।
আরও পড়ুন<<>>ঝড়ে উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশের নিচে কাটছে দিন-রাত
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, খালটি আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছ্ন্ন ছিল। ইদানীং এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। নাক চেপে ব্রিজ পার হতে হয়। অনেকেতো খালের মধ্যেই বাড়ী ও দোকানের পিলার গেড়েছে। দেখার কেউ নেই। যদিও মাঝে মাঝে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। কিছুদিন পর আবার নতুন করে দখল শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, খালটির কোথাও কোথাও পানি আছে। কিন্তু তা কালচে বর্ণ আকার ধারণ করেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এ পানিতে সহজেই মশা বংশবিস্তার করছে। বিপত্তি বেড়ে যায় যখন কেউ ময়লার ভাগাড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওই সময় এ এলাকায় থাকাই কষ্টকর হয়ে ওঠে।
স্থানীয় চা বিক্রেতা ফিরোজ জানান, নোংরা পানি আর আবর্জনা পুড়ানোর ফলে দূর্গন্ধ ছড়ায়। দোকানে টেকা মুশকিল হয়। কাস্টমার অনেক সময় এখানে না বসে চলে যায়। কয়েক বছর ধরেই এখানে দোকান। কেউ কখনো কিছু বলে না। খালে এমন ময়লা সারা বছরই জমে থাকে। এসব ময়লা পানির সঙ্গে ভেসে আসে। আর এখান থেকে যেতে পারে না।
এলাকাবাসীর চাওয়া, খালটি যেন পুনঃখনন করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হোক।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে রামশালা খালটি দ্রুত সময়ে পরিষ্কার করা হবে। খাল রক্ষা করা গেলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। সেইসঙ্গে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।






























