Apan Desh | আপন দেশ

শেরপুরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ, ২ জামায়াত নেতা আটক

শেরপুর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:২৫, ২২ মার্চ ২০২৬

শেরপুরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ, ২ জামায়াত নেতা আটক

ফাইল ছবি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে ফিতরার নামে ভোটারদের টাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় আটক হয়েছেন ২ জামায়াতকর্মী। তারা হলেন-ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও একই গ্রামের এসএ মোতালেবের ছেলে মুরাদ মিয়া বাবু।

শনিবার (২১ মার্চ) শনিবার রাতের ঘটনা এটি।

জানা গেছে, জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী)  আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে আগামী ৯ এপ্রিল ওই আসনে নির্বাচনের দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশন। নিহত জামায়াত  নেতার ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। 

নতুন তপশিলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সরে যাওয়ায় ভোটাররা মনে করেন, নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার। গত এক সপ্তাহ যাবত এই দুই প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। 

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে হাতিবান্ধা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায়  জামায়াত কর্মীরা ভোটারদের মাঝে জনপ্রতি তিনশ টাকা করে বিতরণ করছিল।  

হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা বিতরণের সত্যতা পান। পরে তাদের আটক করে প্রশাসনকে জানানো হলে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে আসেন। 

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান জানান, ধর্মীয় নিয়ম হচ্ছে, ফিতরার টাকা ঈদের জামাতের আগেই পরিশোধ করতে হয়। ঈদের দিন রাতে টাকা বিতরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভোটারদের প্রভাবিত করে পক্ষে নেওয়া। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। 

এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকার বাসিন্দা মাসুদুজ্জামানের ভাষ্য, ফিতরার ১১০ টাকা। কিন্তু ঈদের দিন রাতে তারা দিচ্ছেন ৩০০ টাকা। এই বিতরণ ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। 

তবে ওই ইউনিয়নের জামায়াত সেক্রেটারি শাহিদুল ইসলাম পলাশ বলেন, টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংগঠনের। গতকাল রাতে তাদের কাছে দলীয় সিদ্ধান্ত এসেছে যে, ৫০ হাজার টাকা আপনাদের ফেতরা বাবদ অনুদান। এটা আপনারা প্রতি ওয়ার্ডে অসহায় গরিবদের মাঝে বিতরণ করবেন। 

তিনি আরও বলেন, নামাজের আগেই ফেতরা দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু ঈদের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত দেওয়া যায়। আমাদের অন্য ৭ ইউনিয়নে ঈদের আগেই দেওয়া হয়েছে। টাকা আজ সকালে পাওয়ায় এ ইউনিয়নে দিতে দেরি হয়েছে। দুপুরেই আমরা প্রতি ওয়ার্ডে ৫ হাজার ১ শ’ করে টাকা দিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, আমি কিছুই জানি না। 

তবে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ফিতরার টাকাই দেয়া হচ্ছিল এবং প্রশাসন এর প্রমাণ পেয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো অনৈতিক পথে জয়ী হতে চায় না। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা আছে। 

এ ব্যাপারে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, গোপনে টাকা বিতরণ করায় নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচনে অবৈধভাবে টাকা ব্যবহার করে জনরায় পক্ষে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে একটি দল। 

ঝিনাইগাতীর এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষের সাথে কথা বললে একপক্ষ জানায়, তারা ফিতরার টাকা দিয়েছেন। অপর পক্ষের দাবি, অনৈতিকভাবে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, দোষ স্বীকার না করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি অনুসন্ধান টিমকে লিখিতভাবে জানানো হবে। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। আপাতত আটক দুই কর্মীকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রহিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement