Apan Desh | আপন দেশ

তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সাময়িক বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ১০ আগস্ট ২০২৬

তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সাময়িক বন্ধ

বিএসসি লোগো

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি লিজিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান তিনটিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করার পর সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তাদের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

ডিএসই জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের আলোকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে আপাতত প্রতিষ্ঠান তিনটির কোনো শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে না।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতির অভিযোগ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি সেখানে প্রশাসকও নিয়োগ দেয়া হয়।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রশাসক করা হয়েছে আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মো. সাদেকুর রহমানকে।

প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, দায়-দেনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়। সে প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন<<>>দেড় ঘণ্টায় ৩৪৩ কোটি টাকার লেনদেন 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মোট আমানত প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে ৬৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।

ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানত ৩৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা এবং আমানত ফেরত দেয়ার ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল।

অন্যদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মোট আমানত ৪৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত ৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় রয়েছে প্রায় ৩৪৭ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা এবং একই সঙ্গে শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা অবসায়ন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, দায়, আমানতকারীদের পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

লেনদেন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা আপাতত বাজারে তাদের শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়