Apan Desh | আপন দেশ

গোলরক্ষকের বীরত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে সিটি

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৪১, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

গোলরক্ষকের বীরত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে সিটি

ছবি: আপন দেশ

পেনাল্টি শ্যুটআউটের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ব্রাইটনের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। 

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রেকর্ড ৫৬ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মাঠে গড়ানো ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়। এরপর ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে দলের ব্যাকআপ গোলরক্ষক ও আর্জেন্টাইন তারকা জেরোনিমো রুলির দুর্দান্ত দুটি সেভ এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় শেষ হাসি হাসে স্বাগতিকরা। 

ম্যাচের শুরু থেকেই তরুণ ফুটবলার ও একাডেমির খেলোয়াড়দের নিয়ে এক নতুন কম্বিনেশনের একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ এনজো মারেস্কা। তবে মাঝমাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে সিটির আক্রমণভাগকে সচল রাখার মূল দায়িত্বটা পালন করছিলেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ। তা সত্ত্বেও ম্যাচের গোছালো ফুটবলের ধারা ভেঙে প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় সফরকারী ব্রাইটন। রুলির গায়ে লেগে প্রতিহত হওয়া বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ম্যালিক ইয়ালকুয়ে। 

তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে দেয়নি সফরকারীরা। বিরতির ঠিক আগে ফিল ফোডেনের চমৎকার পাস থেকে বক্সের বাইরে জোরালো নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন কোভাচিচ।

প্রথমার্ধের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। খেলা শুরুর রেশ না কাটতেই ব্রাইটনের জর্জিনহো রুটার দারুণ এক শটে সিটির রক্ষণ ভেদ করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সফরকারীরা, এমনকি রুটারের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে বেঁচে যায় সিটি। দলের এমন স্থবিরতা ভাঙতে এবং আক্রমণভাগে গতি আনতে বেঞ্চ থেকে জেরেমি ডকুকে মাঠে নামান মারেস্কা। বেলজিয়াম উইঙ্গারের মাঠে নামার পর থেকেই সিটির খেলার গতি পুরোপুরি বদলে যায় এবং ব্রাইটনের রক্ষণভাগ চরম চাপের মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন <> সাদমানের সেঞ্চুরির পর ধস, ২৭২ রানে থামল বাংলাদেশ

ম্যাচের শেষ কুড়ি মিনিটে সেই আক্রমণাত্মক ধারারই ফল হাতেনাতে পায় সিটি। মাঝমাঠ থেকে ফিল ফোডেনের দারুণ এক গতিশীল ড্রাইভের সুবাদে বক্সের কাছে ফ্রি-কিক পায় স্বাগতিকরা। রায়ান শেরকির নেওয়া সেই নিচু ফ্রি-কিকে দারুণ এক টোকায় বল জালে জড়িয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাত দেন তরুণ ডিফেন্ডার ভিটোর রেইস। 

টাইব্রেকার ড্রামা : নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ সমতার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় র টাইব্রেকারে। এর আগে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো পেনাল্টি শ্যুটআউটের মুখোমুখি হয়নি সিটি, যার স্মৃতি সবশেষ যোগ হয়েছিল কমিউনিটি শিল্ড ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৭-৬ গোলের জয়ে। 

ইতিহাদ স্টেডিয়ামের পেপ গার্দিওলা স্ট্যান্ডের গোলপোস্টের সামনে শ্যুটআউটের শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল দুই দল। সিটির হয়ে ফোডেন, এনজো এবং ডকু প্রথম তিনটি শটে নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করেন, আর ব্রাইটনের পক্ষে পাস্কাল গ্রস, ম্যাথিউ ও'রাইলি ও ম্যাক্স ডি কুইপারও জালের দেখা পান।

তবে চতুর্থ শটে এসে বড় এক ধাক্কা খায় স্বাগতিকেরা; মাতেও কোভাচিচের শটটি রুখে দিয়ে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন গোলরক্ষক জেসন স্টিল। বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সিটির ত্রাতা হয়ে আসেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি। প্রথমে দারুণ এক ডাইভে ইয়াসিন আয়রির শট ফিরিয়ে দিয়ে ব্যবধান সমতায় রাখেন তিনি। এরপর রায়ান চেরকি সিটির পঞ্চম শট সফলভাবে জালে জড়ালে ফের বলের সামনে দাঁড়ান রুলি। 

ব্রাইটনের পঞ্চম ও শেষ শট নিতে আসা লুইস ডাঙ্কের প্রচেষ্টা নিখুঁত দক্ষতায় প্রতিহত করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উল্লাস ছড়িয়ে দেন এই আর্জেন্টাইন তারকা, যা সিটিকে পৌঁছে দেয় কারাবাও কাপের শেষ আটে।

পেনাল্টির কোনো অনুশীলনই ছাড়াই রুলির চমক : ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সিটির প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা এক অবাক করা তথ্য প্রকাশ করে জানান যে চলতি মৌসুমে তারা অনুশীলনে কখনো পেনাল্টি শ্যুটআউটের প্র্যাকটিসই করেননি!

কোচ এনজো মারেস্কা সংবাদমাধ্যমে বলেন, সত্যি বলতে, আমি এখানে আসার পর থেকে আমরা কখনো পেনাল্টি প্র্যাকটিস করিনি।

শ্যুটআউটে কোভাচিচ পেনাল্টি মিস করলেও মূল পার্থক্য গড়ে দেন গোলবারের নিচে অতন্দ্র প্রহরী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক রুলি। কারাবাও কাপে সিটির মূল গোলরক্ষকে বিশ্রামে রেখে এই আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ীর ওপরেই ভরসা রাখছেন মারেস্কা। এই প্রতিযোগিতার আগের ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছিলেন রুলি। 

এদিকে টাইব্রেকারের স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে ব্রাইটনের ইয়াসিন আয়রি ও লুইস ডাঙ্কের পেনাল্টি শটগুলো নিখুঁত দক্ষতায় রুখে দিয়ে সিটির জয় নিশ্চিত করেন রুলি। ম্যাচ জয়ের পর নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি সংবাদমাধ্যমে বলেন, আমার জন্য এটি আমার মুহূর্ত। 

এসব পরিস্থিতিতে আমি কোনো চাপ অনুভব করি না, বরং আমাদের ভক্তদের সঙ্গে উপভোগ করার চেষ্টা করি। 

এই ধরনের মুহূর্তে তারা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানতাম আমি যেকোনো পেনাল্টি রুখে দিতে পারব।

এদিকে ম্যাচ শুরুর আগেই জাতীয় দলের সতীর্থ এনজোকে দুটি সেভ করবেন বলে জানিয়েছিলেন রুলি। সেই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ম্যাচ শুরুর আগেই আমি এনজো ফার্নান্দেজকে বলেছিলাম যে খেলা পেনাল্টিতে গড়ালে আমি দুটি সেভ করব। 

এই পরিস্থিতিতে আমার খুব ভালো ও আত্মবিশ্বাসী লাগছে, কারণ আমি আমার সতীর্থদের সাহায্য করতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা অনেক দূর যেতে চাই।

এই জয়ের পর আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্র্যাডফোর্ড সিটির মুখোমুখি হবে এনজো মারেস্কার দল। 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়