ছবি: আপন দেশ
এলপিজির দাম বাড়ানোর উদ্যোগে আবারও বাড়ছে ভোক্তাদের উদ্বেগ। নতুন করে দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা। এতে রান্নার গ্যাসের বাড়তি খরচের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর আরও বাড়তে পারে।
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপিজির দাম বাড়লে তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
চলতি মাসের ৪ তারিখে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।
কিন্তু বাজারে কমেনি দাম ও সংকট। এরই মাঝে দাম ও চার্জ বাড়াতে বিইআরসিতে প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ীরা।
প্রতি কেজি এলপিজি মজুত ও বোতলজাত খরচ, ঋণ ও অর্থায়ন ব্যয়, মুনাফা ও কমিশন, রিটেইলারের কমিশন এবং অন্যান্য ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন অঙ্কের এসব প্রস্তাব মেনে নিলে ১৮৩৭ টাকার সিলিন্ডারে সরকার নির্ধারিত দাম বাড়তে পারে আরও ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন <> জাপানে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন-লোয়াব বলছে, খরচ বাড়ায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তারা।
তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও আমদানি খরচ কমলে তখন মূল্য কমাতে রাজি সংগঠনটি।
এ বিষয়ে এলওএবির সহসভাপতি হুমায়ূন রশীদ বলেন, দাম যথাযথভাবে সমন্বয় করতে হবে, যাতে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে না পড়ে। তারা লোকসান করলে এলপিজি আমদানি করবে না। আর আমদানি না করলে সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সরবরাহ বাড়লে এবং সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) কমে গেলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সরকার ডিজেলের দাম কমিয়ে দিলে পরিবহন খরচও হয়তো কমে যাবে। যদিও আগে কখনো এমনটি হয়নি, তবু আমরা বিষয়টিও বিবেচনায় আনব।
আমদানিকারকদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন স্থানীয় পর্যায়ের এলপিজি পরিবেশকরা। বলছেন, তাদের কমিশন বাড়ানোর দাবির বিপরীতে কোম্পানিগুলোর দাবি মেনে নিলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে, এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী বলেন, কোম্পানিগুলোর ব্যয় কী কারণে, কীভাবে এবং কোথায় বাড়ছে, তা আমরা জানি না। যদি ব্যয় বেড়েই থাকে, তাহলে কোম্পানিগুলো এত দিন বিষয়টি জানায়নি কেন? এখন আমাদের সঙ্গে এই গণশুনানি কেন করা হচ্ছে? কোম্পানিগুলো কি আমাদেরও তাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে? বিষয়টি আমাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশে যদি গ্যাসের দাম এভাবে প্রচলিত থাকে, তাহলে কেউ গ্যাস ব্যবহার করবে না। আবার গ্যাসের দাম কমে গেলে কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও কি কমবে? তাদের ব্যয় কি তখন কমে যাবে?’
এদিকে বিইআরসির গণশুনানি বয়কট করার কথা জানিয়ে, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলছেন, ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ বিইআরসি।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালে কত বেশি দামে প্রস্তাব দিয়ে দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছিল? আমরা তখন বলেছিলাম, প্রতি বোতলে ৫৫ টাকা বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। আজকে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের বক্তব্য সঠিক, যৌক্তিক ও ন্যায্য ছিল।
গত পাঁচ বছরে এ দাম আর বাড়ানো হয়নি। তাহলে সেই বাড়তি দাম থেকে কোম্পানিগুলো কত লাভ করেছে? পরবর্তী সময়ে সেই বাড়তি দামের সমন্বয় হতে হতে আজকের এ অবস্থায় এসেছে।
এলপিজি কোম্পানিগুলো তাদের প্রস্তাবে দাম বাড়িয়েছে এবং গণশুনানি ছাড়াই তা কার্যকর করেছে। তারা এই গণশুনানিকে প্রহসনে পরিণত করেছে। আজকের গণশুনানি আসলে কোনো প্রকৃত গণশুনানি নয়, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি করেছিল বিইআরসি। ওই সময় নির্ধারিত চার্জকে ভিত্তি ধরেই মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ হয়ে আসছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































