Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপির নারী এমপি মনোনয়নে বৈচিত্র্যের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ২০:২৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপির নারী এমপি মনোনয়নে বৈচিত্র্যের বার্তা

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি ৩৬ জন নারী নেত্রীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও নতুন মুখের সমন্বয়ের পাশাপাশি এবার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। বিএনপির এ মনোনয়ন বাছাই রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন পাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে ৯ জন এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিজ্ঞ এই নেত্রীরা হলেন- বেগম সেলিমা রহমান।

সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি এবং সুলতানা আহমেদ। দলের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের পুনরায় সংসদে অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে এবার নতুন করে ১৮ জন নারী নেত্রী প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের এ নেতৃত্বকে সামনে এনে বিএনপি নারী রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তরুণ ও সক্রিয় এসব নেত্রীর অংশগ্রহণ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন<<>> ইউনূস সরকারের সময় টিকার ফান্ড বন্ধের ঘটনা নিয়ে যা বললেন তাসনিম জারা

বিশেষভাবে লক্ষণীয়, বিএনপি এবার ধর্মীয় বৈচিত্র্যকেও গুরুত্ব দিয়েছে। মনোনীতদের মধ্যে আন্না মজি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মাধবী মারমা। এতে সংখ্যালঘু ও জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে দলটি।

তবে মনোনয়ন তালিকায় কয়েকজনকে নিয়ে বিতর্কও দেখা দিয়েছে। মনোনীতদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সুবর্না সিকদার পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 

দলের একটি অংশ মনে করছে, ভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির নারীদের অন্তর্ভুক্তি বিএনপির রাজনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। যেখানে নারী নেতৃত্বের বিস্তার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা, নতুন নেতৃত্ব এবং ধর্মীয়-সামাজিক বৈচিত্র্যের এ সমন্বয় বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে দলটি সংসদে নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা দিতে চেয়েছে।

সব মিলিয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে- যেখানে অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও বৈচিত্র্য একসঙ্গে পথচলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়