Apan Desh | আপন দেশ

সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্তে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আহবান টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২১:৪৫, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:৫০, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্তে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আহবান টিআইবির

ফাইল ছবি, আপন দেশ

সরকারি কর্মজীবীদের নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভার অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে সম্পদবিবরণী প্রকাশের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহবান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন বেতন-ভাতাকাঠামো বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব। 

আরও পড়ুন<<>>নতুন ভিসা নীতিতে সহজ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের পথ

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী প্রতিবছর হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা তা করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সৎভাবে জীবনযাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে যারা লিপ্ত, তাদের জন্য এ সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন।

কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এমন আশাবাদের প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম বেতনকাঠামোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আশাবাদ ছিল। তবে বেতন-ভাতা বাড়ার বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা আরও বেড়েছে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়