ছবি : আপন দেশ
মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। বুধবার (০৫ আগস্ট) থেকে টার্মিনালটি থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক খাতের গ্যাসসংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। আগামী সপ্তাহে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।
আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের একটি দল টার্মিনালটির মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে অবশিষ্ট কারিগরি ত্রুটিও সমাধান করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার টার্মিনালটি চালু করা হবে। শুরুতে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মহেশখালীর এ টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে তীব্র গ্যাসসংকট চলছে। জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
আরও পড়ুন<<>>গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে।
স্বাভাবিক সময়ে আমদানি করা এলএনজি থেকে দৈনিক ৯৫০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় তা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। বর্তমানে সামিট গ্রুপ পরিচালিত দেশের দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর উপকূলে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একটি এলএনজি কার্গো থেকে শিপ-টু-শিপ পদ্ধতিতে এলএনজি স্থানান্তরের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়।
পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে এলএনজি আমদানি এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































