Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন সূচনার ইঙ্গিত

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:২২, ৫ মে ২০২৬

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে নতুন সূচনার ইঙ্গিত

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সতর্ক ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, স্থবির হয়ে থাকা ৪০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া আবার সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক নতুনভাবে শুরুর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (০৪ মে) নয়াদিল্লি সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যোগাযোগের গতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে এখন বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভিসা সহজীকরণের বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশই আগ্রহী। উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংহতি বজায় রাখা ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। যে কোনো সংকট কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারত অত্যন্ত ইতিবাচক। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

মতবিনিময়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দুদেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিক্রম মিশ্রিকে প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন ও তিস্তার পানি বণ্টন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, সীমান্ত ও ভিসা সমস্যা।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিক্রম মিশ্রি বলেন, প্রায় তিন দশক আগের এ চুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। পানি খাতের সহযোগিতা সরাসরি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলার কারণে এটি ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেয়া হবে। বিষয়গুলো সমাধানে ভারত সরকার কাজ করছে।

তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আটকে আছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ফলে চুক্তিতে কোনো গতি আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল ভারতের অব্যাহত আলোচনার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন <<>> সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিক্রম মিশ্রি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘ওই মন্তব্যগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আর এ ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সঙ্গে মিলিয়ে বড় করে না দেখার পক্ষপাতী তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, পররাষ্ট্র সম্পর্ক নির্ধারণের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দেন বিক্রম মিশ্রি।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারসহ সব সরকারের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, যা একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। এসময় তিনি ২০২৪ সালে ঢাকা সফরের কথা এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। 

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ভারত এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে কাঠামোগত এবং ধীরস্থির উন্নতির দিকে নজর দিচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধানই আগামী দিনের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়