Apan Desh | আপন দেশ

রাষ্ট্রপতি সংসদে হাসিনার গুম, খুন, গণহত্যার বর্ণনা তুলে ধরবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০৯:১৬, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সংসদে হাসিনার গুম, খুন, গণহত্যার বর্ণনা তুলে ধরবে

মো. সাহাবুদ্দিন ও শেখ হাসিনা।

আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম দিনেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণটি হতে যাচ্ছে নজিরবিহীন। যে রাষ্ট্রপতি একসময় শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা করেছিলেন, তার কণ্ঠেই এবার উঠে আসবে বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্ধকার অধ্যায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির এবারের ভাষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যে নারকীয় গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান পাচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলকে 'ফ্যাসিস্ট শাসন' হিসেবে উল্লেখ করে তার আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরা হবে এ ভাষণে।

বিগত সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ অনুচ্ছেদ। গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এর মাধ্যমে নাগরিকদের গুম করে রাখা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার বিষয়টিও এবার রাষ্ট্রপতির মুখ দিয়ে দেশবাসী শুনতে পাবে।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির ভাষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া এ ভাষণের খসড়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার এ বিশাল ভাষণে নতুন বাংলাদেশের আগামীর পথচলার দিকনির্দেশনা থাকবে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিলেও এটি মূলত প্রস্তুত করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একটি খসড়া তৈরি করা হয়। যা পরে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।  প্রায় তিন মাস আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এ ভাষণের কাজ শুরু হয়। এবারের ভাষণটি প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার হতে পারে। রাষ্ট্রপতি পুরো ১৫০ পৃষ্ঠা পড়বেন না। তিনি কেবল ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ বা ‘চুম্বক অংশ’ সংসদে পাঠ করবেন। বাকি অংশটি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পঠিত বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। তৎকালীন বিতর্কিত নির্বাচনকে তিনি ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। সাবেক যে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘দূরদর্শী নেতা’ বলেছিলেন, এখন তার ভাষণেই সে নেত্রীর পতন ও পলায়নের প্রেক্ষাপট বর্ণিত হবে।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়