Apan Desh | আপন দেশ

জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হবে

ফাইল ছবি।

ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু সেই অধিকার যখন জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়, তখন প্রশ্নের মুখে পড়ে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা। বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় জাল ভোট একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। জাল ভোট শুধু একটি অনৈতিক কাজ নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। আইন অনুযায়ী জাল ভোটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর দণ্ডের বিধান রয়েছে।

জাল ভোট কী?

জাল ভোট বলতে বোঝায় এমন ভোট, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। এটি হতে পারে-অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে দেয়া। ভোটার উপস্থিত না থাকলেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া। ভয়ভীতি বা জোর করে কাউকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা। কিংবা এক ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেয়া। সহজ কথায়, যেখানে ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা অনুপস্থিত, সেখানেই জালভোটের অস্তিত্ব।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ শুধু বিরোধী দলের মুখে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জাল ভোট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা, গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।

জালভোট দেয়ার আইন ও শাস্তি

নির্বাচনী আইনে জাল ভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে- ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের জন্য নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করবেন।

কী কী কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্য

  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।
  • ভোট দেয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।
  • জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়