Apan Desh | আপন দেশ

ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া

‘শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার জন্য নিরাপদ’

প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার জন্য নিরাপদ’

ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনা অফিসারদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ চরমভাবে বেড়ে উঠে। বাহিনীর সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। পেশাদার অফিসারদের একপাশে সরিয়ে অনুগত অফিসারদের ওপরে নিয়ে আসা হয়। বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনা অফিসারদের নিয়োজিত করে বাহিনীকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়। এর বড় কারণ হলো, শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনা বাহিনী তার জন্য নিরাপদ বলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

শতাধিক গুম-খুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এদিন, বেলা সোয়া ১২টায় সাক্ষীর জন্য নির্ধারিত ডকে উঠে ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, ‘তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুম-খুনের সংস্কৃতি কীভাবে গড়ে উঠেছে তা নিয়ে সাক্ষ্য দেবেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২৪শে জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মুখ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে ডিজিএফআই। বিভিন্ন সময়ে তারা লোকদের উঠিয়ে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী-রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হতো।

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়। বস্তুত যেকোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা কিছু করা যায় ভেবে, এমন মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর হয়ে যায় তাদের। অর্থাৎ যা ইচ্ছা তা-ই করা যায় ভাবতে শুরু করেন তারা।

এ সময় সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। জবানবন্দিতে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, র‌্যাব গঠনের আগে ২০০৩ সালে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১২ জন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে ৬০ জন মারা গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জড়িতদের দায়মুক্তি দেয়া হয়। এ দায়মুক্তি ছিল ‘লাইসেন্স টু কিল।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়