Apan Desh | আপন দেশ

নির্বাচনের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর

ছবি: আপন দেশ

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে মতভেদ থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের আগের ১২টি নির্বাচনের মতো নয় বরং এ নির্বাচনের সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনিস্টিউট আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

আলী রিয়াজ বলেন, বিগত সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের গণতান্ত্রিক সুযোগ তৈরি হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতায় দেশে গণতন্ত্রের স্থায়ী রূপ প্রতিষ্ঠা হয়নি। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সীমিত, এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাই মুখ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি। ত্রিশটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এজেন্ডাগুলো তৈরি করেছে। তাই এ চুক্তির বাস্তবে রূপ দেয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও বর্তায়। এটি কোনো চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। এটি অগুনতি শহীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, বাংলাদেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী কিংবা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার জন্য নির্বাচন দরকার। 

আরও পড়ুন<<>>ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

আলী রীয়াজ বলেন, যদি ন্যায়বিচার চাই, সংস্কার চাই এবং নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই—তাহলে নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। গণভোট, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার—সবকিছুর ক্ষমতা জনগণের হাতেই।

তিনি বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা জীবন বিনিময় করে ফ্যাসিবাদের যাঁতাকল থেকে  মুক্তি পেয়েছে। এখন আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথযাত্রায়: সে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এ রাষ্ট্রের মালিক।

সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। এবং গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দিতে হবে।
আলী রীয়াজ বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সে প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে হ্যাঁ'র পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির, ইনস্টিটিউটের ডিসটিংগুয়েসড ফেলো সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়