Apan Desh | আপন দেশ

অত্যাবশ্যক ২৯৫টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

অত্যাবশ্যক ২৯৫টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার

ফাইল ছবি

জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ২৯৫টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির মিলনায়তনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত গাইডলাইন দুটোই নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন তালিকায় আগের তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ বেশি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধনীতি বাংলাদেশের ওষুধ খাতকে স্বাবলম্বী করতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে সময় বাজারে প্রায় ৩৫০টি ওষুধ ছিল, যার মধ্যে ১১৭টির মূল্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করত। তবে প্রায় তিন দশক ধরে এ তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০-এ পৌঁছেছে।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে মানুষের মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই যায় ওষুধ কিনতে। ব্যক্তিগত খাত থেকেই এ ব্যয়ের বড় অংশ আসে। অনেক দেশে ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিট স্কিম, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো বীমা বা বেনিফিট স্কিম না থাকায় ওষুধের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে প্রণীত জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় থাকা ২৯৫টি ওষুধের সবগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করবে। বর্তমানে যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তাদের পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত মূল্যে আসতে হবে। আর যারা এর নিচে রয়েছে, তারা চাইলে সে মূল্য বজায় রাখতে পারবে অথবা বাজার থেকে সরে যেতে পারবে।

এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় না এমন আরও ১১শ’ ওষুধের দামের সীমানা নির্ধারণ করবে সরকার। সেক্ষেত্রে সরকারের বেধে দেয়া দামের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে ওষুধ কোম্পানিগুলো। তবে এ ওষুধগুলোর দাম কার্যকরে চার বছর সময় বেধে দিয়েছে সরকার।

ওষুধ দাম সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে কোম্পানিগুলোর নতুন ওষুধের আবেদন গ্রহণ করবে না সরকার।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়