Apan Desh | আপন দেশ

১৫ বছরেও ফেলানী হত্যার বিচার পেল না পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:০০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

১৫ বছরেও ফেলানী হত্যার বিচার পেল না পরিবার

ফাইল ছবি

২০১১ সালের ০৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের উপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয় ফেলানী খাতুন। হত্যার পর সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারের ওপর ঝুলে ছিল তার মরদেহ। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহ বিশ্বজুড়ে সীমান্ত হত্যার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। 

আজ ০৭ জানুয়ারি এ হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো। দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও পায়নি ফেলানীর পরিবার। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে পরিবারসহ ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন ফেলানীর বাবা। পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের আসাম রাজ্যে। মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরছিলেন। ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যায় ফেলানী। সকাল পৌনে ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল। 

আরও পড়ুন<<>>ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে বার্তা দিল বাংলাদেশ

এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। তবে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় আদালত। রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনর্বিচারের আবেদন করেন ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালে আবার বিচার শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালত আবারও অমিয় ঘোষকে খালাস দেন।

পরে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন 'মাসুম'–এর সহায়তায় ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন ফেলানীর বাবা। কয়েক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য ছিল, কিন্তু করোনার কারণে তা আর হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পায়নি পরিবার।

ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বলেন, মেয়ের খুনির বিচার চাইতে চাইতে ১৫ বছর পার করলাম। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঝুলে আছে। মামলার কী অবস্থা, তা–ও জানতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ, মরার আগে যেন মেয়ের বিচার দেখে যেতে পারি।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে গুলি করে মারা হয়েছে। ১৫ বছর হয়ে গেল, এখনও বিচার পেলাম না। আজও আমরা বিচারের আশায় পথ চেয়ে আছি।

কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ফেলানী হত্যার বিচার না হওয়া ভারতের আন্তরিকতার অভাবকেই তুলে ধরে। বিচার হলে সীমান্ত হত্যা অনেকটাই কমে আসত। ভারত সরকারের উচিত বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা।


আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়