Apan Desh | আপন দেশ

আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে মন্ত্রীর অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:০৮, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ২২:৫২, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আইন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে মন্ত্রীর অসন্তোষ

ফাইল ছবি

গত দুই দশকে আইন কমিশনের পেছনে জনগণের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ফল সামান্য। তাই এ কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং ইউএনডিপি আয়োজিত এক যৌথ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন কমিশন এখন পর্যন্ত ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করেছেল। এর মধ্যে মাত্র আটটি আইন সেখান থেকে নেয়া হয়েছে। প্রতি বছর আট থেকে দশ কোটি টাকা সেখানে আমরা খরচ করছি, জনগণের টাকা। অথচ সেখান থেকে ফলাফল খুব কম আসছে।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি বা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরের পর কেন তাদের আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হতে হবে?

তিনি আরও বলেন, আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পদ্ধতি আরও আধুনিক ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষায় অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। তিনি বার কাউন্সিল নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহবান জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপতিদের অবসরের পর বিভিন্ন আকর্ষণীয় বা লোভনীয় পদে নিয়োগ দেয়া হলে তা সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতি কেন করপোরেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বসে শেয়ারহোল্ডারদের বিরোধ মেটাবেন?

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের এমন প্রলুব্ধকর পদ দেয়া হলে তা বিচার বিভাগের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এটি স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ নিরপেক্ষতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন <<>> নববর্ষের নিরাপত্তায় থাকছে স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স

পেশার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এ পেশার মান বাড়াতে চাই। শুধু মুখের কথায় তা সম্ভব নয়। এক প্রতিবেদনে দেখলাম, একজন জ্যেষ্ঠ (অবসরপ্রাপ্ত) বিচারপতি পুনরায় ওকালতিতে ফিরে এক মক্কেলের কাছ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নামে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। এমনকি সে টাকা তিনি নিজ নামে চেকে গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই বিচারপতি কাঙ্ক্ষিত রায় নিশ্চিত করতে পারেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। এ মর্মে সুপ্রিম কোর্ট বারে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  আমরা এমন আইনজীবী চাই না যারা কেবল নীতির বুলি আউড়ান; আমরা এমন আইনজীবী চাই যারা বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন এবং এর বাজেট বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এসব বিষয় একটি স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হোক এবং সমাধান করা হোক। এতে আগামী প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি হবে। তারা তাদের জ্ঞান, মেধা, সততা ও সাহসের মেলবন্ধনে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে পরিচালিত করবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন গুলব্র্যান্ডসেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়