তারা তিনজন- শাম্মী আহমেদ, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও শামীম হক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সকল চেষ্টাই করেছিলেন। একেবারে তৃণমূল অর্থাৎ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ক্ষেত্র তৈরি করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন। লড়ে গেছেন উচ্চ আদালতেও। কিন্তু তাদের প্রার্থীতা টিকল না। হেরে গেলেন তারা। ফলে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তারা প্রার্থী হতে পারছেন না।
বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাম্মী আহমেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী শামীম হকের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে শুনানি এক সপ্তাহ পর হবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে শাম্মী আহমেদ, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও শামীম হকের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হচ্ছে না।
শুনানির জন্য নির্ধারিত দিন মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ পৃথকভাবে এ তিনটি আদেশ দেন।
এর আগে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত শাম্মী আহমেদের আপিল আবেদন শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটির শুনানি হয়। এসময় আদালত বলেন, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চেই নির্ধারণ করুক শাম্মীর প্রার্থিতা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি হয়।
আদালতে আজ শাম্মী আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, মোতাহার হোসেন সাজুসহ এক ডজন সিনিয়র আইনজীবী।
আরও পড়ুন <> ড. ইউনূসের ছয় মাসের কারাদণ্ড
আইনজীবীরা আদালতে বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর শাম্মী আহমেদের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। সবদিক বিবেচনা করে অন্তত আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত শাম্মী আহমেদকে নির্বাচনের মাঠে থাকার সুযোগ দিন।
তখন চেম্বার বিচারপতি বলেন, আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আপনারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এসব বিষয়ে তো আমি একা সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। আগামী ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের সব বিচারপতি মিলে শুনবো।
এর আগে ওইদিন সকালে প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবারও আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন শাম্মী আহমেদ।
গত ১৫ ডিসেম্বর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হয় বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ। ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহাল আছে।
গত ২০ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়।
আগেরদিন ১৯ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।
আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।
এর আগে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।
আরও পড়ুন <> বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আলালসহ ৮ নেতার কারাদণ্ড
তার আগে ১৮ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
গত ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই রায় দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।
অন্যদিকে জাহিদ ফারুক মামলার বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিলের আপিল করেছিলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। সেই আপিল নামঞ্জুর করা হয়। ফলে জাহিদ ফারুকের প্রার্থিতা বহাল থাকে।
এদিকে ২১ ডিসেম্বর শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদের করা আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের দিন আজ নির্ধারণ করেছিলেন চেম্বার আদালত। তবে এ সময়ে আওয়ামী লীগের শামীম হকের নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলতে বাধা নেই বলেও জানিয়েছিলেন চেম্বার আদালত।
ওইদিন আদালতে শামীম হকের পক্ষে শুনানি করেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ রাজা ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। আর এ একে আজাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম।
ওইদিন শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করতে চেম্বার আদালতে ফের আবেদন করেন এ কে আজাদ।
আরও পড়ুন <> নৌকার পেতে ফের আদালতে শাম্মী
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।
ওইদিন আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন শাহ মঞ্জুরুল হক। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তার আইনজীবী শাহ মঞ্জরুল হক আপিল আবেদন করেন।
এর আগে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের দেয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তার রিট খারিজ করেন বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
১৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এই রায় দেয় ইসি। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন শামীম হক।
শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম (এ কে) আজাদ। তার আপিল মঞ্জুর করা করায় শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক— এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ। আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া ইসিতে আপিল আবেদন জমা দেন।
অন্যদিকে এ কে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শামীম হকের করা আপিল আবেদন নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ কে আজাদের প্রার্থিতা বহাল থাকে। শামীম হক ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এ কে আজাদ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।
আপন দেশ/এমআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































