Apan Desh | আপন দেশ

প্রবল স্রোতের মাঝেও অক্ষত নেপালের সেই বাড়িটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:২৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবল স্রোতের মাঝেও অক্ষত নেপালের সেই বাড়িটি

ছবি : সংগৃহীত

চারদিকে তীব্র স্রোত, পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। অথচ সেই ভয়াবহতার মাঝেও অবিশ্বাস্যভাবে দাঁড়িয়ে আছে একটি সবুজ বাড়ি। নেপালের সেই বাড়িটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—এত প্রবল স্রোতের মধ্যেও কীভাবে অক্ষত রয়ে গেল বাড়িটি?

বাড়িটির বারান্দায় আতঙ্কিত অবস্থায় কয়েকজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্য।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গতিতে কাদা, পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ বয়ে যাচ্ছে। আশপাশের স্থাপনা স্রোতের তোড়ে ভেসে গেলেও দুইতলা ওই সবুজ বাড়িটি তুলনামূলক অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে। যা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সবার মধ্যে।

ভিডিওতে বাড়িটির ওপরের তলার বারান্দায় অন্তত তিনজনকে দেখা যায়—একজন পুরুষ, একজন নারী ও একটি শিশু। চারপাশে তীব্র স্রোত থাকায় তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না। পরে ছাদে থাকা একজনকে লাল কাপড় নাড়তে দেখা যায়, যা সাহায্যের সংকেত হিসেবে ধারণা করা হয়।

রিইনফোর্সড কংক্রিটের কাঠামো : ‘আর্কিটেকচার প্রেজেন্টেশন’-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাড়িটির টিকে থাকার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ এর রিইনফোর্সড কংক্রিট ফ্রেম। এই ধরনের কাঠামোয় কংক্রিটের কলাম ও বিমের সঙ্গে স্টিলের রড ব্যবহার করা হয়। কলাম, বিম ও ভিত্তিকে স্টিলের রডের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রাখায় পুরো ভবনটি একটি সমন্বিত কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আর্কিটেকচার ও নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করে এমন অ্যাকাউন্ট, ‘আর্কিটেকচার প্রেজেন্টেশন’ বাড়িটির নির্মাণশৈলী, অবস্থান এবং সুসংহত জ্যামিতিক গঠনের দিকে ইঙ্গিত করে এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রবল বন্যার মধ্যেও বাড়িটির টিকে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ এর রিইনফোর্সড কংক্রিট ফ্রেম।

অবস্থানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ : শুধু নির্মাণশৈলী নয়, বাড়িটির অবস্থানও এর টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িটি বন্যার স্রোতের সবচেয়ে গভীর ও শক্তিশালী মূল প্রবাহপথের ঠিক মাঝখানে ছিল না। তুলনামূলকভাবে কিছুটা উঁচু ও মূল প্রবাহ থেকে সামান্য দূরের জায়গায় থাকায় বাড়িটি সরাসরি সবচেয়ে ভারী ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে।

আরও পড়ুন : নেপালে নিহত বেড়ে ৭৩৪, এখনও নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার

পানির স্রোত দুই দিকে ভাগ হয়ে যায় : বাড়িটির তুলনামূলক কমপ্যাক্ট বা সুসংহত আকৃতিও স্রোতের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে থাকতে পারে। ‘আর্কিটেকচার প্রেজেন্টেশন’-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাদা-পানি ও ধ্বংসাবশেষ বাড়িটির সঙ্গে আঘাত করার পর এর দুই পাশ দিয়ে ভাগ হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরে বাড়ির চারপাশে জমে থাকা কাদা একটি প্রাকৃতিক ঢালের মতো তৈরি হয়ে পরবর্তী স্রোতের গতিপথও কিছুটা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ, বাড়িটির টিকে থাকার পেছনে শুধু একটি কারণ নয়—রিইনফোর্সড কংক্রিটের কাঠামো, তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থান এবং বন্যার স্রোতকে দুই দিকে প্রবাহিত করার মতো গঠন—সবকিছুর সম্মিলিত ভূমিকা থাকতে পারে বলে স্থাপত্যবিষয়ক ওই বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে।

বিবিসির তথ্যানুযায়ী, নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে গত বুধবার আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০৩ জনের দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ২৫০০ এর বেশি মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্যোগের সময় ওই সবুজ রঙ করা দোতলা বাড়িটির টিকে যাওয়া নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক এরিক চেন ওই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের একটি এটি। চারপাশের সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া প্রবল স্রোতের মধ্যেও একটি বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।’

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়