Apan Desh | আপন দেশ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:২৬, ৭ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এফবিআইয়ের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি কিছু গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) প্রকাশিত নথিগুলোতে দাবি করা হয়েছে, আশির দশকে কুখ্যাত যৌনপাচারকারী জেফরি এপস্টেইন-এর মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় হয়। পরে তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তিনটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ওই নারী দাবি করেছেন—এপস্টেইনের মাধ্যমেই তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল। তখন তিনি অল্পবয়সী কিশোরী ছিলেন।

এফবিআই তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, যা ‘এফবিআই ৩০২’ নামে পরিচিত, সেখানে বলা হয়েছে—ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য ওই নারী ট্রাম্পের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কামড় দেন। এরপর ট্রাম্প তাকে আঘাত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এপস্টেইনের যৌন পাচার চক্রে তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগও আনা হয়নি। বিচার বিভাগের প্রকাশিত অনেক নথিতেই পর্যাপ্ত প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তার অতীতে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

লেভিট বলেন, এ অভিযোগগুলো যে ভিত্তিহীন, তার বড় প্রমাণ হলো—জো বাইডেনের সময়কার বিচার বিভাগ চার বছর ধরে এসব তথ্য জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ তারা জানত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ভুল করেননি।

প্রকাশিত নথিগুলো ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে নাম প্রকাশ না করা ওই নারী দাবি করেছেন, তার বয়স যখন ১৩-১৫ বছরের মধ্যে, তখন এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্ক অথবা নিউ জার্সিতে নিয়ে যান। একটি উঁচু ভবনের বড় কক্ষে এপস্টেইন তার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন।

সাক্ষাৎকারের নোটে নারীটি বলেন, ট্রাম্প পছন্দ করেননি যে তিনি ‘বয়-গার্ল’ ধরনের ছিলেন। পরে এটিকে ‘টমবয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

আরও পড়ুন <<>>ইরানে ফের ভূমিকম্পের আঘাত

২০১৯ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ তদন্তের সময় এফবিআই ওই নারীর সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎকার নেয়। আগে বিচার বিভাগ একটি নথিতে এসব সাক্ষাৎকারের কথা নিশ্চিত করলেও চারটির মধ্যে মাত্র একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল। সেখানে নারীটি অভিযোগ করেছিলেন, কিশোরী বয়সে এপস্টেইন তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা যায়, ওই নারী আরও দাবি করেছেন—আশির দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

এ প্রকাশনা নিয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করা সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণবিহীন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকাশিত কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি থাকতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এফবিআইয়ের নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ২০১৯ সালের পর তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

বিচার বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা নথিগুলো মোট ১৫টি নথির অংশ। এগুলো আগে ভুলবশত ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে এপস্টেইন তদন্তসংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প-সম্পর্কিত কিছু নথি আগে গোপন রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি-কে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনপ্রণেতারা জানতে চান, সরকার কীভাবে এসব নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়েই শেষ হয়ে যায়। ওই অর্থলগ্নিকারীর যৌন নির্যাতনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কখনো জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বিচার বিভাগের আগে প্রকাশিত কিছু নথিতে দেখা যায়, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প এ তথ্য অস্বীকার করেছেন।

আরেকটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প পাম বিচের পুলিশ প্রধানকে ফোন করে বলেছিলেন, সবাই জানত সে এসব করছিল।

২০১৯ সালের অক্টোবরে নেয়া ওই নারীর শেষ সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তখন ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকাল চলছিল। সাক্ষাৎকারে এফবিআই এজেন্টরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না।

জবাবে ওই নারী বলেন, আমার জীবনের এ পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে কী লাভ, যখন সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়