Apan Desh | আপন দেশ

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মরক্কোয় প্রাণহানি ২ হাজার ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:২৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপডেট: ০৯:৫২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মরক্কোয় প্রাণহানি ২ হাজার ছাড়িয়েছে

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মরক্কোয় প্রাণহানি দুই হাজার ছাড়িয়েছে। গুরুতর আহত আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষ। উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী। 

বিগত অনেকটা সময়ে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখেনি দেশটির বাসিন্দারা। মাত্র ২০ সেকেন্ডেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় কয়েকটি শহর। অনেকে ঘুমের মধ্যেই প্রাণ হারান। খবর রয়টার্সের।

এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে দেশটির আল হাউজ প্রদেশে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন হাজার-হাজার মানুষ। এখনও বহু প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি জরুরি বিভাগের সদস্যরা। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ১১ মিনিটে রিখটার স্কেলে ছয় দশমিক আট মাত্রার এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির ১৯ মিনিট পর আরেকটি ভূকম্পন হয়। রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল চার দশমিক নয়। রাতে প্রাণরক্ষায় অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। শনিবারও শত শত মানুষকে সড়কের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, মরক্কোর চতুর্থ বৃহত্তম শহর মারাকেশ থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অ্যাটলাস পর্বতমালায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার। 

মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মারাকেশ, আল-হাউজ, ওয়ারজাজেট, আজিলাল, চিচাউয়া, তারউদান্ত এলাকায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশিরভাগ প্রাণহানি ঘটেছে পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন। 

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। আশ্রয়ের ব্যবস্থা, খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মারাকাশে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। পর্যটকদের রেস্তোরাঁ থেকে বের করে নিয়ে আসা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু জায়গায় দেয়াল ভেঙেছে। ভূমিকম্পের পর মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়ে আসেন। সারা রাত তারা বাইরেই কাটান।

মারাকেশের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আব্দেল হক এল আমরানি বলেন, ‘হঠাৎ অনেক বড় ধরনের কম্পন শুরু হলে বুঝতে পারি এটি ভূমিকম্প। দেখলাম, ভবনগুলো দুলছে। এরপর বাড়ির নিচে নেমে পড়ি। নিচে যাওয়ার পর দেখি সবমেত সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। কাঁদছে শিশুরা।’  

ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইমেরিটাস অধ্যাপক বিল ম্যাকগায়ার এএফপিকে বলেন, ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প তেমন একটি হয় না, এমন এলাকাগুলোতে যথেষ্ট মজবুত করে ভবন নির্মাণ করা হয় না। এতে করে ভূমিকম্পে ভবনগুলো ধসে পড়ে এবং অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রকৌশলী ফয়সাল বাদ্দোর জানান, তিনি যে ভবনে ছিলেন, সেখানে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল দ্রুতগতির একটি ট্রেন আমাদের ভবনের পাশ দিয়ে যাচ্ছে।’

ভূমিকম্পের সময় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মারাকেশের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী মাইকেল বিজেত। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল বিছানাটা উড়ে যাবে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আমি কাপড় না পরেই বাড়ির নিচে যাই। কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখি, পুরো ভবন বিধ্বস্ত। এটি সত্যিকার অর্থেই মহাবিপর্যয়।’

মারাকেশের আরেক বাসিন্দা ফয়সাল বাদৌর। তিনি এএফপিকে জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ফয়সাল বলেন, ‘ভূকম্পন অনুভূত হলে গাড়ি থামাই। আমার তখন শুধু মনে হচ্ছিল, এটা কত বড় এক বিপর্যয়। আমি তখন অসহ্যরকম আহাজারি ও কান্না করতে থাকি।’

আরও পড়ুন <> মরক্কোয় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত হাজার ছাড়াল

পার্বত্য গ্রাম আসনির অবস্থানও কেন্দ্রস্থলের কাছে। সেখানকার বাসিন্দা মুন্তাসির ইত্রি বলেন, ‘বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশীরা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে। হাতের কাছে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই স্থানীয় লোকজন আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

আরেকটু পশ্চিমে তারৌদান্ত অঞ্চলের কাছের একটি এলাকায় থাকেন শিক্ষক হামিদ আফকার। ভূমিকম্পের সময় তিনি তার ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। হামিদ বলেন, ‘২০ সেকেন্ডের মতো কম্পন হয়েছে। দরজাগুলো আপনা-আপনি খুলছিল আর বন্ধ হচ্ছিল। আমি দ্রুত তৃতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসি।’

শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এক জনপদের রূপ নিয়েছে মারাকেশ ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বড় বড় ভবন ধসে পড়েছে। বিধ্বস্ত ভবন থেকে বের করা হচ্ছে মরদেহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভূমিকম্পে আহত ব্যক্তিদের রক্ত দেয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। এদিকে ভূমিকম্পের ফলে মারাকেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পের ঘটনায় মরক্কোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতারা। সমবেদনা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি)।

মারাকেশ বেশ প্রাচীন শহর। শহরের অধিকাংশ ভবনই পুরনো এবং এই শহরটিতে জাতিসংঘ ঘোষিত একাধিক বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন রয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, ১৯৬০ সালের পর শুক্রবার এই ভূমিকম্প দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। ওই বছর দেশটিতে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

দ্বিতীয় যমুনা-পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আগামী বছর গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী বেতন বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, বন্ধ ৬৭৯ কারখানা কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী পতনে চলছে শেয়ার বাজারের লেনদেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ম্যাক্সওয়েল যুক্তরাষ্ট্রে ভোটযুদ্ধ, ট্রাম্পের ক্ষমতার পরীক্ষা ইউক্রেইনের ত্রাণকেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলায় নিহত ২৬ আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনসহ ২ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এলপিজির দাম বাড়ল সুনির্দিষ্ট সময়েই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাকশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের শক্ত হাতে দমনের আহবান জামায়াতের ফের পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন টানা দরপতনের পর বাড়ল স্বর্ণের দাম নিউজিল্যান্ড সফর থেকে সরে দাঁড়ালেন মারুফা ট্রাম্পের বাসভবনের অদূরে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৯
City Touch