Apan Desh | আপন দেশ

পপ সম্রাট আজম খানের জন্মবার্ষিকী আজ

বিনোদন ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:১০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পপ সম্রাট আজম খানের জন্মবার্ষিকী আজ

পপ সম্রাট আজম খান

বাংলা পপ গানের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম আজম খান। তাকে বলা হয় বাংলা পপ গানের সম্রাট। কারণ, তার কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব ও সাহসী সুরধারা একটি প্রজন্মের চেতনাকে নাড়া দিয়েছিল। সত্তরের দশকে যখন দেশের সংগীতধারা মূলত আধুনিক ও লোকগানের আবহে সীমাবদ্ধ, তখন আজম খান পশ্চিমা রক ও পপের প্রভাব নিয়ে তৈরি করেন এক নতুন ঢং, যা তরুণদের মনে জাগিয়ে তোলে স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও ভালোবাসার স্পন্দন।

প্রয়াত গুণী এ শিল্পীর জন্মদিন আজ। বাংলা গানের এ কিংবদন্তির জন্ম ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি দেশবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান।  

১৯৭১ সালের পর আজম খান ‘উচ্চারণ’ নামে একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। উচ্চারণের গান সংগীত জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে আজম খানের সঙ্গে তার বন্ধু নিলু আর মনসুর গিটার বাজাতেন, সাদেক বাজাতেন ড্রাম। আজম খান প্রধান ভোকাল হিসেবে গান করতেন।

১৯৭২ সালে বিটিভিতে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাদের গান তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সে অনুষ্ঠানের ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দু’টি সরাসরি প্রচার হওয়ার পরেই ব্যাপক প্রশংসা আর তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় দেশ জুড়ে।

১৯৭৪ সালের আজম খান বাংলাদেশ টেলিভিশনে আরেকটি অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ’ (রেললাইনের ঐ বস্তিতে) শিরোনামের গানটি গেয়ে হইচই ফেলে দেন।

আজম খানের পাড়ার বন্ধু ছিলেন ফিরোজ সাঁই। পরবর্তী সময়ে তার মাধ্যমে পরিচিত হন ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, পিলু মমতাজের সঙ্গে। এক সঙ্গে বেশ কয়েকটা জনপ্রিয় গান করেন তারা। এরই মধ্যে আরেক বন্ধু ইশতিয়াকের পরামর্শে সৃষ্টি করেন একটি এসিড-রক ঘরানার গান ‘জীবনে কিছু পাবো না এ হে হে!’ বলা হয়, এটি বাংলা গানের ইতিহাসে- প্রথম হার্ডরক!

ব্যক্তিগত জীবনে সহজ সরল জীবন যাপন করতেন তিনি। আজম খান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার আলম খানের ছোটভাই। ১৯৭১ সালে একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঢাকায় কয়েকটি গেরিলা অভিযানে অংশ নেন আজম খান।

আজম খানকে একুশে পদক দেয়া হোক এ দাবি উঠেছিল অনেক দিন আগে থেকেই। প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের ভক্তকুলদের সে দাবি পূর্ণ হয়েছে। মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন আজম খান।

নিজের গাওয়া গানের মাধ্যমে বেঁচে আছেন আজম খান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও চলতে থাকে তার গান। সে সময় তিনি গেয়েছিলেন ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘আমি যারে চাইরে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’, ‘ও রে সালেকা ও রে মালেকা’, ‘জীবনে কিছু পাব না রে’, ‘বাধা দিয়ো না’সহ অনেক জনপ্রিয় গান।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়