Apan Desh | আপন দেশ

এডিপির উন্নয়ন প্রকল্পে নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় 

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ১৭ মে ২০২৬

এডিপির উন্নয়ন প্রকল্পে নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় 

ছবি: আপন দেশ

পরিকল্পনা কমিশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে ইউজিসির অধীনে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৪৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হলেও তাতে নাম নেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের। এতে উন্নয়ন যাত্রায় বড়ধরণের ধাক্কার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতারের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভা গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব যাচাই-বাছাই ও বিবেচনার জন্য হয় এ সভা।

উক্ত সভায় প্রাথমিকভাবে মোট ৮৫টি প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উত্থাপিত হয়৷ যার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অধীনে ৬টি, বাংলাদেশ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে ১৭টি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে ৬১টি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ১টি প্রকল্প ছিলো। যাচাই-বাছাই শেষে ইউজিসির অধীনে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৪ টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

তন্মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা, গোপালগঞ্জ ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ২টি করে ১৪ টি সহ বুয়েট, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় সহ নতুন পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট ৪৪টি প্রকল্প নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে গেল বছরে নতুন কোন প্রকল্প প্রস্তাবনা না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রকল্পই সেখানে স্থান পায়নি।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ০৩ মার্চের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে ২০২৬-২০১৭ অর্থবছরে এডিপির সবুজ পাতায় নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির নিমিত্তে প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের জন্য সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (প ও উ) বরাবর নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিশনে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ইবিতে ৫৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার একটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। গত বছরের ০৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে ড. নওয়াব আলী কে সরিয়ে এস্টেট অফিসের উপ পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগ দেন উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে নতুন দুটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিয়ে এসেছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন<<>>প্রাথমিকের ‘মিড ডে মিল’ নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

তন্মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ১৬৩৬ কোটি টাকার একটি এবং গবেষণা উন্নয়নের জন্য ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ছিলো। কিন্তু নতুন পরিচালক দায়িত্বে আসার পরে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। চলমান ৫৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ইবির উন্নয়নে আর কোন নতুন প্রকল্প থাকছে না।

তবে দীর্ঘদিন যাবত নতুন কোন উন্নয়ন প্রকল্প না থাকার ব্যাপারটি ভালোভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। চলমান প্রকল্পের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ। এ প্রকল্পের শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় সামনে আর কোনো নতুন প্রকল্প নাই। ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যে একাধিক প্রকল্প থাকলেও তালিকায় ইবির নাম না থাকাটা প্রশাসনের দূর্বলতা বলে মনে করছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. নওয়াব আলী বলেন, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের কাজই হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন প্রকল্প সাবমিট করা। আমাদের বর্তমানে একটি মাত্র প্রকল্প ঠিকাদারের গাফিলতিতে সময়বদ্ধ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যহত হচ্ছে যেটা ২০১৯ সালে অনুমোদিত। আমার সময়ে বিভিন্ন বিভাগ এবং অফিসের চাহিদা নিয়ে দুইটা প্রকল্প সাবমিট হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমি পদে না থাকায় এ বিষয়ে আমি আর কিছু জানিনা। আপনি বর্তমান পরিচালকের সাথে কথা বলেন।

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরেও নতুন প্রকল্প দাখিল করতে না পারার কারণ হিসেবে এ বিভাগে দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবলের অভাব এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন।

বর্তমানে একটি স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও ক্রীড়া গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমার নিয়োগের পরে এ নতুন প্রজেক্ট কেন্দ্রিক কাজ গুলোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু সফল হইনি। ক্রীড়া বিভাগের একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলছে, বিগত প্রজেক্টের অনেক ভুল ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে এতে কর্তৃপক্ষের যে সহযোগিতার দরকার তা আমি পাইনি। কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে কিছু খরচ করতে হয় কিন্তু সেক্ষেত্রে বাজেট স্বল্পতার সমস্যা হয়েছে। দায়িত্বে থাকলেও সবসময় আমাদের হাতে সব কিছু থাকে না।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়