Apan Desh | আপন দেশ

কোরবানির পশুর সংস্পর্শে মানুষে ছড়াতে পারে যেসব রোগ

বাকৃবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ১৬ মে ২০২৬

কোরবানির পশুর সংস্পর্শে মানুষে ছড়াতে পারে যেসব রোগ

ফাইল ছবি, আপন দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। লাখো মানুষের সমাগম, পশু পরিবহন এবং অসুস্থ প্রাণী চিহ্নিত করতে অসচেতনতার কারণে গবাদিপশুবাহিত সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা এবং ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি) বা খুরা রোগের মতো জুনোটিক রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। এ রোগ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ, রক্ত, মাংস বা বর্জ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে।

কোরবানির হাটের সংক্রমণঝুঁকি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান বলেছেন, অসুস্থ পশু জবাই, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাই এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দেশে কিছুদিন আগে রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত, চোখ ফোলা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা গেছে। অ্যানথ্রাক্স একটি ভয়াবহ জুনোটিক রোগ, যা আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত, মাংস এবং দেহের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। হাটে যদি কোনো আক্রান্ত পশু থাকে, তাহলে সেখান থেকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে নিয়মিত টিকাদান এবং হাটে প্রাণীর প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলেও তিনি জানান।

আক্রান্ত পশু কিভাবে শনাক্তকরণ করা যাবে সে বিষয়ে অধ্যাপক জানান, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। তবে লক্ষণ দেখা দিলে পশুর শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয়। এ রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে জীবাণুটি ‘স্পোর’ তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময় সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া পশুর জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে কিংবা সাদা দাগ ও ফোসকা দেখা দিতে পারে। আচরণগত পরিবর্তন হিসেবে অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাবও লক্ষ্য করা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন<<>>সৌদিতে ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে রোববার

কোরবানির পশুদের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের পর আরও একটি ভয়াবহ রোগ হলো ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, যা খুরা রোগ নামে বেশ পরিচিত।

ড. মো. আমিমুল এহসান বলেন, খুরা রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোরবানির সময় এ রোগ মহামারি আকারে দেখা দেয়। দিনাজপুর বা চট্টগ্রামের কোনো আক্রান্ত গরু যখন ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা হয়, তখন পুরো পথজুড়ে এবং আশপাশের সকল গরুতে এ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই খামারিদের প্রতি অনুরোধ, অসুস্থ পশু কোনোভাবেই হাটে বা ট্রাকে তোলা উচিত নয়। আগে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পশুকে সুস্থ করে তারপর কোরবানির জন্য বাছাই করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত কোরবানির পরও অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যায়। এসব পশু হাটে এসে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে অন্যান্য সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে। তবে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ মানুষে সংক্রমিত হলেও অ্যানথ্রাক্সের মতো জটিল পর্যায়ে যায় না।

হাটে যাওয়ার সময় ক্রেতাদের সচেতনতা বিষয়ে অধ্যাপক  ড. মো. আমিমুল এহসান বলেন, অসুস্থ মনে হওয়া প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে তা ঢেকে হাটে যাওয়া উচিত। কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের মতো জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর দ্রুত হাত ও পা সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

ড. আমিমুল আরও বলেন, হাটের বর্জ্য, ঈদের সময় পশুর রক্ত যাতে যত্রতত্র না পড়ে, সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং মাংস সঠিকভাবে রান্না করা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো পশু হাটে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহবানও জানান তিনি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement