ফাইল ছবি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব কেন্দ্রে নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই, সেখানে কোনোভাবেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া যাবে না। ব্যবহারিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ২০ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে জেল ও বহিষ্কারের ব্যবস্থাও থাকবে। এসব নিয়ম বাস্তবায়নে মাঠে নামানো হচ্ছে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভিজিল্যান্স টিম।
ব্যবহারিক পরীক্ষায় আগের ‘গড়পড়তা’ নম্বর দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের সরাসরি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নম্বর অর্জন করতে হবে।
কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তাত্ত্বিক পরীক্ষা যে কেন্দ্রে হবে, ব্যবহারিক পরীক্ষাও সে কেন্দ্রে নিতে হবে। পরীক্ষক নিয়োগেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে কোনোভাবেই বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
এছাড়া পরীক্ষা শেষের সাত দিনের মধ্যে উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ সরাসরি বোর্ডে জমা দিতে হবে। ডাকযোগে পাঠানো যাবে না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিতসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নকল প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। প্রথম স্তরের অপরাধে পরীক্ষা কক্ষে কথা বলা, ডেস্ক বা পোশাকে লেখা রাখা, ক্যালকুলেটরে তথ্য সংরক্ষণ বা মোবাইল সঙ্গে রাখলে সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
দ্বিতীয় স্তরের অপরাধে প্রশ্ন বা উত্তরপত্র বাইরে পাচার, কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে হুমকি দেয়া বা উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করলে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।
তৃতীয় স্তরের গুরুতর অপরাধের মধ্যে রয়েছে প্রক্সি দেয়া, রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিবর্তন, উত্তরপত্র বিনিময় এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা বা অস্ত্র প্রদর্শন। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি জিডি ও ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
নতুন নিয়মে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি পরীক্ষার মধ্যে আর কোনো বিরতি থাকবে না। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> জাতীয় পতাকা অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে ইবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ
যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক রয়েছে, সেখানে এমসিকিউ ২৫ নম্বরের জন্য ২৫ মিনিট এবং সৃজনশীল ৫০ নম্বরের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, অটিস্টিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় পাবেন। প্রয়োজনে তারা শ্রুতিলেখক সঙ্গে রাখতে পারবেন।
আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৫-৬ ফুট লম্বা বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে ১ জন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বসানো যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা নিতে পারবে না।
পরীক্ষা হলে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ প্রত্যবেক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে ভিজিল্যান্স টিমকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তারা যেকোনো সময় কেন্দ্রে অভিযান চালাতে পারবে। অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষকদের জন্যও কড়া সতর্কতা দেয়া হয়েছে। ওএমআর শিট বা উত্তরপত্রে ভুল বা গরমিল থাকলে এবং তা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের অবহেলায় হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, অতীতে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। এবার সে সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ল্যাব সুবিধা ছাড়া কোথাও ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে না।
তিনি বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় আর গড়পড়তা নম্বর দেয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষক নিয়োগেও কঠোরতা রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, কেউ অসদুপায় অবলম্বন করলে বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাইকে বোর্ডের নির্দেশনা মানতে হবে। সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনের জন্য ভিজিল্যান্স টিমসহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































