Apan Desh | আপন দেশ

কিলিং মিশনের প্রধান মোকাররম, চুক্তি ৫ কোটি টাকা

আজিম হত্যার পরিকল্পনায় ‘বন্ধু’ শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪৬, ২৩ মে ২০২৪

আজিম হত্যার পরিকল্পনায় ‘বন্ধু’ শাহীন

জিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতের কলকাতায় খুন হয়েছেন। বুধবার (২২ মে) তার মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয় কলকাতার সঞ্জিভা গার্ডেন থেকে। পুরো মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন নিহতের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে বাংলাদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকেই আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কিলিং মিশনের প্রধান মোকাররম আজিমের পরিচিত। আর ছোটবেলার বন্ধু আখতারুজ্জামান শাহীনের ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়। শাহীনও ঘটনার সময় ভারতে ছিলেন। পরে তিনি দেশে ফেরেন এবং দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

হত্যাকাণ্ডের সময় সঞ্জিভা গার্ডেনের ওই ফ্ল্যাটে ছয় জন ছিলেন। এর মধ্যে তিন জন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হয়েছে। মোকাররম, সিনথিয়া ও মারুফ নামে তিন জনকে আটক করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। এর মধ্যে মোকাররম পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। কেন হত্যাকাণ্ড সে সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন।

যেভাবে এ হত্যাকাণ্ড: গত ১২ মে ভারতে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজিম তার পূর্বপরিচিত বন্ধুসম্পর্কীয় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ওঠেন। পরদিন ১৩ মে বেলা ২টার দিকে তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে গোপাল বিশ্বাসের বাসা থেকে বের হন। এর মধ্যে আজিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন সিনথিয়া ও মোকাররম। তাদের সঙ্গেই তিনি সঞ্জিভা অ্যাপার্টমেন্টের ওই ফ্ল্যাটে যান। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, আজিমের সঙ্গে তিন জন ভেতরে যাচ্ছেন। এদের এক জন নারী। অন্য দুই জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন জন হলেন—মোকাররম, সিনথিয়া ও মারুফ। তবে খুনের সময় ছিলেন ছয় জন। অন্য তিন জনের ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত জানতে পারেনি পুলিশ। এদের দুই জন ভারতীয় নাগরিক বলে পুলিশের ধারণা।

ওই ফ্ল্যাটে আজিমকে হত্যার পর লাশ তিন টুকরো করা হয়। তিনটি ব্যাগে ভরে তিন জনকে ব্যাগগুলো ফেলে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ব্যাগগুলো তারা কোথায় ফেলেছে, সে ব্যাপারে মোকাররম কিছু বলতে পারেনি। সিসিটিভির ফুটেজ বলছে, ১৩ মে তারা ফ্ল্যাটে ঢুকলেও ওই দিন কেউ বের হননি। পরে এক জন ১৫ মে, এক জন ১৬ মে, এক জন ১৭ মে বের হন। কিন্তু আজিমকে আর বের হতে দেখা যায়নি। 

আরও পড়ুন <> ‘খুন’ কিন্তু ‘মরদেহ নেই’: যা জানা গেল

গোয়েন্দারা বলছেন, মোকাররম দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় স্বর্ণ চোরাকারবারি। মারুফ এক সময় ভারতের বাসিন্দা ছিলেন। পরে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায় মাইগ্রেট হয়ে চলে আসেন। তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়িত। এরা দুই জনই আজিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। 

শাহীনের সঙ্গে আজিমের কেন বিরোধ : মোকাররম গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছেন, শাহীনের সঙ্গে আজিমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। আজিমের চিনির ব্যবসা আছে। এ ছাড়া তারা দুই জন আরও কিছু ব্যবসায় জড়িত। সেই ব্যবসার চার কোটি টাকা আজিম পাবেন শাহীনের কাছে। কেউ বলছেন, এটি হুন্ডির টাকা, আবার কেউ বলছেন, এটি স্বর্ণ চোরাকারবারির টাকা। মোকাররমও নিশ্চিত নন, এ টাকা আসলে কীসের। তবে চার কোটি টাকা বিরোধের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শাহীন টাকা দিচ্ছেন না। নির্বাচনের আগে গত অক্টোবরে এ নিয়ে মীমাংসা বৈঠক হয়। বৈঠকে মীমাংসাও হয়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাদের দ্বন্দ্ব থেকে যায়। কয়েক দিন আগে একে অপরকে হুমকি দিয়েছে। সেখানে শাহীন বলেছে, ‘আমি টাকা দেব না’, আর আজিম বলেছে, ‘কীভাবে টাকা আদায় করতে হয় আমি জানি।’ এরপর বিরোধ আরও বাড়ে। এরপর শাহীন এমপি আজিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তার এই পরিকল্পনায় যোগ দেন মোকাররম ও মারুফ। সিনথিয়াকে ব্যবহার করে কিলিং মিশন সম্পন্ন করেন তারা। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, এমপি আজিম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশি। তারা সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তিনি খুন হয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আমরা তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’ আটককৃতরা কি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে?—জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, অনেক তথ্যই জানা গেছে। এখনই এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’

আপন দেশ/এমআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়