Apan Desh | আপন দেশ

খনন হচ্ছে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ, মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খনন হচ্ছে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ, মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ফাইল ছবি, আপন দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন চলছে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান তিনটি গ্যাস কূপ। যেখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হবে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বাংলাদেশে এবারই প্রথম সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন কাজ শুরু করছে। নতুন এসব কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আশা করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

প্রথাগত গ্যাস অনুসন্ধানের সীমা পেরিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করছে গভীর গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়ে। জ্বালানি সংকটের মাঝে যা ছড়াচ্ছে আশার আলো। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের এ কূপ এলাকায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের সবচেয়ে উচ্চচাপ এবং উচ্চতাপ সম্পন্ন ৩১ নম্বর কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন শুরু হয় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল। এর আগে ১৯৬৯ সালে সর্বোচ্চ ৩৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। আর এবার ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার খনন হয়েছে। চলতি বছরেই কূপটির খনন সম্পন্ন (৫ হাজার ৬০০ মিটার) করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার আশা বিজিএফসিএলের।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর থেকে। তবে বিদ্যমান কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত এবং চাপ কমার ফলে উৎপাদনও কমেছে। এ অবস্থায় তিতাসের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২৯, ৩০ এবং ৩১ নম্বর কূপের খনন প্রকল্প নিয়েছে বিজিএফসিএল। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খনন কাজ চলমান রয়েছে। এ দুই কূপের খনন শেষে ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে।

এ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, আমরা যদি খনন কাজটা সফলভাবে শেষ করতে পারি, তবে তিনটা কূপ থেকে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস দেয়া সম্ভব হবে। ২৯ নম্বর কূপটা খনন সম্পন্ন হলে ৩০ নম্বর কূপটা আমরা খননে যাব। একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপ খনন হবে। 

আরও পড়ুন<<>>একনেকে দেড় লাখ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প পাস

তিনি আরও বলেন, ২৯ নম্বর কূপটা যেহেতু ২৮৬০ মিটার খনন হয়েছে। এটা যদি কোনো কারিগরি জটিলতা না থাকে হয়তো আগামী দুই মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা শেষ হলে তারপর ৩০ হবে। আর ৩১ নম্বর কূপ আরও তিন থেকে চার মাস লাগবে। কারণ এটার সঙ্গে যেহেতু অনেক গভীর এবং হাই প্রেশার টেম্পারেচার জড়িত। আমরা খননকালীন সময়ে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছি। ভবিষ্যতে আবার কী হবে এটাও বলা যায় না। তবে তিনটা কূপ হয়তো আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৩৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। কিন্তু ৩৭০০ মিটারের নিচে কী আছে এটা আমরা জানি না। ১৯৬৯ সালে ৩৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত যখন যাওয়া হয়, তখন ৩৬০০ মিটারে একটা হাই প্রেশার জোন এনকাউন্টার করে। এ কারণে আমাদের নিচে যাওয়া হয়নি। 

তিনি বলেন, এটা একটা গভীর অনুসন্ধান কূপ এবং যেটা হাই প্রেশার হাই টেম্পারেচার বিভিন্ন জোন অতিক্রম করে যাবে। তিতাসের ৩৭০০ মিটার থেকে ৫৬০০ মিটার গভীরে আরও কোনো গ্যাসের উপস্থিতি আছে কিনা এটা জানা যাবে। এ মুহূর্তে আমাদের যে টার্গেট আছে, এখানে ২ টিসিএফ এর মতো গ্যাস থাকতে পারে। এ উদ্দেশেই আমাদের খননটা সম্পন্ন করা হবে। 

তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও উৎপাদন বাড়াতে বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভার এবং নতুন আরও কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণের কথা জানান বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

খনন বিষয়ে বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, আশা করছি আগামী ছয় মাসে এ তিনটা কূপ থেকে আমরা প্রোডাকশন জাতীয় গ্রিডে দিতে পারব। আমাদের চাহিদার তুলনায় এ গ্যাস খুব বেশি সেটা বলা যাবে না। তবে অবশ্যই এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করতে পারব। 

তিনি আরও জানান, এলএনজি বেশি দামে কেনা হচ্ছে সেখান থেকে সরকার একটা স্বস্তির জায়গায় যাবে। কারণ সরকার এখান থেকে নিচ্ছে ১ ইউনিট গ্যাস ১ টাকা মূল্যে নিচ্ছে। যেটা এলএনজি ফর্মে আনতে গেলে প্রায় ৭০ টাকা ৮০ টাকায় বাইরে থেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। ​অনেক ফরেন কারেন্সি আমাদের এখানে লস হয়ে যাচ্ছে। এখানে ফরেন কারেন্সি সেভ হবে। ৪৫ মিলিয়ন গ্যাস আমাদের বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে না।

১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি। এরপর ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় দেশের সবচেয়ে বড় এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে।

আপেন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়