Apan Desh | আপন দেশ

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ,জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ২৩ আগস্ট ২০২৬

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ,জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার

ফাইল ছবি, আপন দেশ

নোয়াখালীতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের করেছে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামের এক জামায়াত কর্মী। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিনকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। 

আটক হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টার হরণী ইউনিয়নের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি ওই এলাকার বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।

পুলিশ জানায়, হেলাল উদ্দিন আগে স্থানীয় আদর্শ গ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। দুই-তিন বছর আগে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। 

পুলিশ জানায়, রোববার সকালে হেলাল উদ্দিন কৌশলে ৯ বছর বয়সী ওই শিশুকে তার ফার্মেসিতে ডেকে নেন। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী টিনের ভাঙা অংশের একটি ছিদ্র দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন হেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন। 

আরও পড়ুন<<>>মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে: জামায়াত

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) একই এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিচার বসানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাতের সাজা দেয়া হয়। 

স্থানীয়রা জানান, হেলাল উদ্দিন একসময় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। সে থেকে সবাই জানে তিনি জামায়াত কর্মী।

তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেছেন, হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি আগে যুবলীগ করতেন। নিজেকে বাঁচাতে ৫ আগস্টের পর একটি বড় মিছিলে তিনি ঢুকে যান।

চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন রাসেদ বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয়দের আটক করা অভিযুক্তকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বজনরা হাতিয়া থানায় মামলা করবেন।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানান, এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়