Apan Desh | আপন দেশ

ইবিতে অর্থের প্রলোভনে শিশুকে বলাৎকার, আটক ১

ইবি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৭, ১২ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৬:১২, ১২ আগস্ট ২০২৬

ইবিতে অর্থের প্রলোভনে শিশুকে বলাৎকার, আটক ১

ছবি: আপন দেশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগত এক ভ্যানচালক দ্বারা অপর এক ভিক্ষুক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জীবন নামক অভিযুক্ত এক ভ্যানচালককে আটক করেছে ইবি থানা পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী ছেলেটি একটি ইজিবাইকে করে যাচ্ছিলো। অভিযুক্ত জীবন ওর নিজের ভ্যানে করে যাচ্ছিল। ইবির পার্শ্ববর্তী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে তারা একটি ফোন নিয়ে কথা বলছিল। আমরা এগিয়ে যাওয়ার পর অটোওয়ালা বলে, ভাই, আমি তো রানিংয়ের উপর আছি, আপনারা এ ব্যাপারটা দেখেন। এসময় দুজনেই একটি ফোনকে নিজের দাবি করছিল। পরবর্তীতে দুজনকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসা করার পর ভুক্তভোগী ছেলেটা জানায় যে, তাকে ৫০০ টাকা আর মোবাইল ফোনের লোভ দেখিয়ে টিএসসির বাথরুমে নিয়ে বলাৎকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত জীবন ইবি ক্যাম্পাসে ভ্যান চালায়। ভুক্তভোগী শিশুও ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করে, তার বাসা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্টেশন মোড় এলাকায়। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে ৫০০ টাকা এবং একটা মোবাইল দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী শিশুকে ৫০ টাকা দিলেও বাকি টাকা ও মোবাইল ফোনটি দেয়নি সে। ফোন নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়েই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং অভিযুক্ত ভ্যানচালককে হেফাজতে নেয়া হয়। অভিযুক্ত ভ্যানচালক জীবন এর  আগেও এক ছেলে শিশুকে বলাৎকার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাস ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। সংশ্লিষ্ট দুজনেই প্রতিবন্ধী, টাকা ও মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ ভুক্তভোগীকে মেডিকেলে পরীক্ষা করিয়েছি এবং পরবর্তীতে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তীতে যা ব্যবস্থা নেয়া যায় নিবে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে‌। গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুর মেডিকেল টেস্টের জন্য  হসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার শারীরিক (ধর্ষণ সংক্রান্ত) পরীক্ষা এবং শরীরে ডিএনএ (DNA) আলামত রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভিকটিম শিশুর পরিবারকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের পরিবারকে পাওয়া গেলে তারা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন। অন্যথায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা রুজু করবে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়