ফাইল ছবি
টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯ টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। এটি বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যেকোনো সময় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে উজানে বৃষ্টির পানি তিস্তা দিয়ে রাতে নামার সম্ভাবনা আছে। যার ফলে বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা কাছাকাছি কিংবা অতিবাহিত হয়ে পারে। সেজন্য পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৬ টায়ও পানি একই সীমায় ছিল।
আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ৫২.০০, সকাল ৯টায় ৫১.৯৩, বেলা ১২টায় ৫১.৯০, বিকেল ৩টা ও ৬টায় ৫১.৮৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এদিন রাত ৯টায় পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫১.৯৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়; যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
আরও পড়ুন<<>>অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তিস্তা নদী বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সেদিন তিস্তার পানি ৫২.০০ থেকে ৫২.১০ এর মধ্যে বাড়া-কমার মধ্যে ছিল।
এদিকে ১৩ জুলাই থেকে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে তিস্তার পানি প্রবেশ করায় নদীর পাড়ের সাধারণ মানুষদের কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে ভাটি নিচু এলাকা ছেড়ে উজানে অস্থানীয়ভাবে আশ্রয় নিয়েছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, আমার ইউনিয়নের চর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে গত ১৩ জুলাই থেকে। পানি কমলে এলাকার মানুষের কষ্ট কম হবে বলে এই আশায় রয়েছে তারা। কিন্তু উজানের পানি আর কমছে না।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় তিস্তার ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবেশ করতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। তবে পানির প্রবাহ বেশি থাকলে ও উজানে বেশি ঢল হলে সেই পানি ঘন্টাখানিকের মধ্যে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, পানির প্রবাহ কম থাকলে তিস্তা ব্যারেজে প্রতি ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার গতিতে পানি প্রবাহিত হয়। তবে উজান থেকে অতিরিক্ত ঢল নেমে এলে পানির গতি ও প্রবাহ উভয়ই বেড়ে যায়। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































