Apan Desh | আপন দেশ

ঢাকায় যাতায়াতে লেগুনাই একমাত্র বাহন, ভোগান্তিতে কালীগঞ্জের মানুষ

কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক,কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় যাতায়াতে লেগুনাই একমাত্র বাহন, ভোগান্তিতে কালীগঞ্জের মানুষ

ছবি: আপন দেশ

রাজধানী ঢাকার অদূরে অবস্থিত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা। ঢাকার অদূরে হলেও যাতায়াতের একমাত্র বাহন লেগুনা। উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঢাকায় সরাসরি যাতায়াতের জন্য এখানে নেই কোনো বাস সার্ভিস। প্রতিদিন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে লেগুনায় যাতায়াত করতে হয়।

গত দুই যুগেও এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখ যোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। ফলে ঢাকায় যাতায়াতের দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাগামী যাত্রীদের সকাল থেকেই কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন সোনালী ব্যাংকের মোড়ে লেগুনার অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইন। অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন লেগুনার সংখ্যাও বেড়ে কালীগঞ্জ এখন যেন লেগুনার নগরীতে পরিনত হয়েছে। লেগুনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ফলে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে যাত্রীদের। একাধিক যানবাহন বদল করে গন্তব্যে পৌছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।  

এ বিষয়ে চাকরিজীবি কাজী লোকমান হোসেন বলেন, অফিসে পৌঁছাতে ভোরে বের হই। সরাসরি বাস না থাকায় টঙ্গীতে নেমে অন্য পরিবহনে উঠতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। বিকল্প আর কোনো পরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়েই লেগুনায় যেতে হচ্ছে। চালকরা ইচ্ছে মত পার্কিং ও পুরো রাস্তা বন্ধ করে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এতে পুরাতন সোনালী ব্যাংক মোড় ও বাজার সন্নিকটস্থ বটতলা মোড়ে সারাক্ষণ জ্যাম লেগেই থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদাসীন।  

একই অভিযোগ শিক্ষার্থীদেরও। তারা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতে পরিবহন সংকট সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।  

আরও পড়ুন<<>>দেশের ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেগুনার পরিবহন শ্রমিক বলেন, কালীগঞ্জ হতে টঙ্গি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৪০/৫০ টি পুরাতন লেগুনা চলাচল করে। যাদের বৈধ রুট পারমিট নেই। ড্রাইভারদের নেই লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র। লেগুনাগুলো মূলত মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস বা পিকআপের নতুন সংস্করণ। 

কালীগঞ্জ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঢাকার পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনা-নেয়ায় একাধিকবার গাড়ী পরিবর্তন করতে হয়। এতে করে পণ্যের পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লি. পরিবহনের সাবেক পরিচালক হাজী মো. আফতাব উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালের শেষের দিকে রাজনৈতিক কারনে উক্ত পরিবহনটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঢাকা রুটে বাস সার্ভিস চালু করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআরটিএ-এর অনুমতিক্রমে ৪০টি বাস দিয়ে সার্ভিসটি চালুর উদ্যোগ গ্রহন করলেও অদৃশ্য কারনে সার্ভিসটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

বাসের মালিক ও কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লি. এর পরিচালক মো. সেন্টু বলেন, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ কালীগঞ্জ টু গুলিস্তান রুটে ১১০টি বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু পরিবহনটি চালু করার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করার পরেও এখন পর্যন্ত মৌখিক বা লিখিত কোন অনুমতি দিচ্ছে না। কেন অনুমতি দিচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি প্রশাসনের উদাসিনতাকেই দায়ী করেন।

গাজীপুর বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এসএম মাহফুজুর রহমান মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবহন মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫টি বাসের কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ে বৈধ প্রতিয়মান হয়েছে। নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ডে, যাত্রী উঠা-নামা করার টিকেট কাউন্টার বা স্টপেজের নাম ও ভাড়ার তালিকাসহ বিভিন্ন তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করলেই এ রুটে বাস সার্ভিস চালু হতে কোন বাধা থাকবে না। 
বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা আগে থেকেই অত্যন্ত নাজুক। সমস্যা নিরসনে পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসু। নিরাপদ গণপরিবহন চালু করা কালীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বাস সার্ভিস চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, সময় ও যাতায়াত সাশ্রয়ী হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।

যাত্রীদের ভাষ্যমতে আ’লীগ সরকারের আমলে লোক দেখানো বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু হলেও তা টেকসই হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঢাকা রুটে দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু করা হলে কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আধুনিক গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় এমপি একেএম ফজলুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ জরুরি।


আপেন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে টিএসসিতে সমর্থকরা পাসপোর্টে ফিরছে ইসরায়েল ব্যতীত, জলছাপে থাকছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিম জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি, মন্ত্রণালয়ে এসে আটক ৪ দেশের ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা ছিনতাইয়ের সময় কুপিয়ে হত্যা, দুইজনের মৃত্যুদণ্ড শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত জুলাই সনদ বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল ঢাকায় পৌঁছেছেন আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো ইরানকে উত্তেজনা কমানোর আহবান আরব লীগের ওমানে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী হকি দল পাঁচ দিনের সরকারি সফরে তুরস্ক গেলেন সেনাপ্রধান গোল উৎসবের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড