ফাইল ছবি, আপন দেশ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীপাড় এলাকায় মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য। আলোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং হত্যার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদারের মৃত্যু হয়। এরমধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বপরিচয়, মাদক-সংশ্লিষ্ট বিষয়, লুটপাট কিংবা অন্য কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই রায়পুরজুড়ে শোক, আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরিকল্পনাকারী জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে।
আরও পড়ুন<<>>ঠাকুরগাঁওয়ে যুবসমাজের উদ্যোগে মাদক নির্মূল কর্মসূচি
নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, একসঙ্গে আমার মা ও তিন বোনকে হারিয়েছি। এ শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রতিটি মুহূর্তে তাদের কথা মনে পড়ছে। আমি চাই, আমার মতো আর কোনো ভাই যেন এভাবে একদিনে তার পুরো পরিবারকে হারাতে না হয়। আমি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া নয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। নিহত পাঁচজনের কল রেকর্ডও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেহেতু বাসা থেকে কোনো লুটপাটের আলামত পাওয়া যায়নি, তাই ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ সব তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার পরই হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতি (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীপাড় এলাকার একটি বাসা থেকে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হন সন্দেহভাজন অন্তর মজুমদার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































