Apan Desh | আপন দেশ

হ্রদের জলে ভাসলো বিজুর ফুল

রাঙামাটি প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:১২, ১২ এপ্রিল ২০২৬

হ্রদের জলে ভাসলো বিজুর ফুল

ছবি : আপন দেশ

সবেমাত্র পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। তার লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে হ্রদের বুকে। এ ভোরে নানা বয়সি মানুষ ফুল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন ঘাটে। ডালায় থাকা রক্তজবা, রঙ্গণ গাদাসহ নাম না জানা বুনো ফুল কলা পাতায় সাজাতে ব্যস্ত সবাই। উদ্দেশ্য গঙ্গা দেবীর আরাধনার হ্রদের জলে ফুল নিবেদন।

এভাবেই বাংলা বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসবে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসলো বিজুর ফুল।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবির মূল আয়োজন। পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯ এপ্রিল মারমা জনগোষ্ঠীর জলকেলির মাধ্যমে শেষ হবে পাহাড়ের বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা।

মূলত পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে দিনটি উদযাপন করে থাকে। তবে এটি ‘ফুল বিজু’ নামে বেশি পরিচিত। 

পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিজু, বিহু, বৈসুক, সাংগ্রাই, চাংক্রানসহ নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি পল্লিগুলো।

আরও পড়ুন<<>>ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু, বন্ধ হলো হাসপাতাল

সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নানা বয়সী পাহাড়িরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন ঘাটে। ২৯ চৈত্রের খুব ভোরে ‘মা গঙ্গা’র উদ্দেশে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয় মূল আয়োজন। উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের পিনোন হাদি পরেন আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠেন।

ফুল ভাসাতে আসা মিত্র চাকমা বলেন, আমরা একে ফুল নিবেদন বলি। জল বা পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই গঙ্গাদেবী ও জলবুদ্ধের কাছে এ প্রার্থনা। আমাদের চাওয়া, সারা বছর যেন সবাই ভালো থাকে।

জোনাকি চাকমা জানান, ফুল ভাসানোর মাধ্যমেই মূলত বর্ষবরণের মূল আমেজ শুরু হয়। আজ ফুল বিজু, সোমবার মূল বিজু এবং মঙ্গলবার বছরের প্রথম দিন বা গজ্জ্যেপজ্জ্যে দিন, এ তিন দিন পাহাড়ে আনন্দের কোনো সীমা থাকে না।

পাহাড়ের এ ঐতিহ্যবাহী উৎসব এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিয়েছে পাহাড়ের সব মানুষের এক মিলনমেলায়। উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, এ ফুল ভাসানো এখন কেবল রীতি নয়, এটি একটি সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের সব জাতিসত্ত্বার মানুষ আজ একসঙ্গে মিলিত হয়ে প্রার্থনা করছে যাতে আগামী দিনগুলোতে সবাই মিলেমিশে সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়